
শ্রদ্ধা – রুপালী খানম
আজ থেকে প্রায় চৌদ্দ বছর
আগের কথা হবে,
সহপাঠীর কলম চুরি
করেছিলাম যবে।
কলমের শোক বিষন্ন মুখ
নালিশ দিলো স্কুলে,
পছন্দের ওই কলম যত
গন্ডগোলের মূলে।
ক্লাসে এলেন ইংরেজী স্যার
চুরির ব্যাপার ঘিরে,
বলেন দাঁড়াও দেওয়াল ধরে
সবাই পিছন ফিরে।
একে একে সবার পকেট
চললেন তিনি খুঁজে,
আমাকে চোর ডাকবে সবাই
কাঁপছি এটা বুঝে।
কলম চুরির ঘটনাটা
থাকবে না আর গোপন,
চুরি বদনাম নিয়েই জীবন
করতে হবে যাপন।
যাবেই খবর মায়ের কাছে
কেঁদেই উপোস রবে,
জানতে পারে যদি বাবা
জানিনা কি হবে !
কেন করলাম এমনটা ভুল
অনুতাপের জ্বালা,
ইংরেজী স্যার আমার কাছে
পকেট খোঁজার পালা।
কলমটা বের করলেন তিনি
বুঝলাম অনুভবে,
তারপরেও খুঁজলেন তিনি
একে একে সবে।
আমি তো চোর জেনেই গেছেন
কেন খোঁজা আর?
স্যারের মহান ভাবনা জানি
চৌদ্দ বছর পর।
হারিয়েছে কলমটা যার
দিলেন হাতে তুলে,
লজ্জাতে মুখ লাল হয় আমার
বলবেন বুঝি খুলে।
ক্লাস করালেন যথারীতি
বললেন নাতো কিছু,
অন্তরটা খায় কুরে কুরে
দুর্ভাবনার পিছু।
চোর বদনামটা হয়নি আমার
এটাই পুরস্কার,
স্যারের সাথে হঠাৎ দেখা
করি নমস্কার ।
বলি তাঁকে চিনেছেন কি
আমিতো সেই ছাত্র,
করেছিলাম কলম চুরি
অপরাধ নয় মাত্র ।
সব জেনেও আপনি আমায়
করেছিলাম ক্ষমা,
আপনার প্রতি শ্রদ্ধা আমার
হাজার গুনে জমা।
বললেন তিনি গল্পটাতো
পড়ছে আমার মনে,
ভালবাসি আমি তোদের
সবাইকে প্রাণ পনে।
তোরাই আমার গলার মালা
মালার প্রতি ফুল,
সন্তান সম ছাত্ররা সব
হয়তো করে ভুল।
চাইনি জানতে আমার ছাত্র
কে ছিল সেই মন্দ,
খোঁজার সময় চোখটি আমি
রেখেছিলাম বন্ধ ।
আরও পড়ুন: নারীর বিজয় – রূপালী খানম
এই লেখার সাথে নড়াইল নিউজ ২৪.কম এর কোন সম্পর্ক নেই।