
স্টাফ রিপোর্টার, নড়াইল
নড়াইলে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, পরিবার কল্যাণ সহকারী ও পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকদের নিয়োগবিধি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবীতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে নড়াইল সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সামনে এ কর্মসূচি চলছে।
এ সময় বক্তব্য রাখেন নড়াইল সদর পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক এম এ আল মামুন, মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন, পরিদর্শিকা রেক্সোনা খাতুন,পরিবার কল্যাণ সহকারী শ্রীমতি রানী দাস প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, আমাদের বিয়ে হয়েছে কাবিন হয়নি এরকম একটা অবস্থার মধ্যে আমরা জীবন পার করছি। কারণ আমাদের চাকরি আছে, কিন্তু যার কোন নিয়োগ বিধি নাই। কেউ ২০ বছর কেউ ২৫ বছর একই পদে চাকরি করছেন, অনেকে একই পদে থেকেই অবসরে গেছেন নেই কোন পদোন্নতি । অন্য দপ্তর গুলোতে নিয়মিত পদোন্নতি দেয়া হয় অথচ আমরা পাচ্ছি না।
বক্তরা বলেন, ‘আমরা তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও বেতন পাই চতুর্থ শ্রেণির। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মূল চালিকা শক্তি আমরা। আমরা ২৩ হাজার ৫০০ পরিবার কল্যাণ সহকারী, ৪ হাজার ৫০০ পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক, ৫ হাজার পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা—সবাই একসাথে কাজ করি। জন্মনিয়ন্ত্রণ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, শিশুমৃত্যু রোধ নিয়ে আমরা প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দিই। আমরা একটি পরিবারকে সুন্দর করে রাখার জন্য একটি বাচ্চা জন্মের পর তার নিবন্ধন, গর্ভবতী সেবা নিশ্চিত, হাসপাতালে পাঠানোর জন্য উৎসাহিত করা, বাড়িতে ডেলিভারিসহ ইপিআই-এ সহযোগিতা করি।’
তারা আরও বলেন, ‘আমরা করোনার ভ্যাকসিন, জরায়ুমুখ ক্যান্সারের ভ্যাকসিন দিয়েছি, এর আগে পোলিও মুক্ত করেছি, কমিউনিটি ক্লিনিকে বসি, ইপিআই-তে বসি—এক কথায় আমরা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সমস্ত সেবা দিই। আমরা ট্যাবে কাজ করি, আমাদের সমস্ত রিপোর্ট অনলাইনে যায়। কিন্তু আমরা তৃতীয় শ্রেণিতে যোগদান করেও ২০১৫ সালের পরে চতুর্থ শ্রেণিতে ১৭তম গ্রেডে বেতন পাই। আমাদের মূল কথা হচ্ছে, আমাদের কোনো নিয়োগ বিধি নেই, কোনো পদোন্নতি নেই। বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও ২৬ বছরে কোনো নিয়োগ বিধি হয়নি। যতদিন নিয়োগ বিধি না হবে, ততদিন আমরা কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে যাব।’
আমাদের সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আমরা কোনো পদোন্নতি পাচ্ছি না। যার ফলে আমাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। সেজন্য আমাদের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে, সেটা পালন করছি। নিয়োগ বিধি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লাগাতার কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চলতে থাকবে।’ অনতিবিলম্বে নিয়োগ বিধি করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বক্তরা।
এ সময় সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কর্মরত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, পরিবার কল্যাণ সহকারী ও পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।