স্টাফ রিপোর্টার, নড়াইল
নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিমায়েত হোসেন ফারুকে ঈদের নামাজ শেষে কথা বলার সময় স্যান্ডেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। স্যান্ডেল নিক্ষেপের অভিযোগ হুমায়ুন মোল্যার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের উপর হামলার অভিযোগ এনে সদর থানায় জিডি করেনে চেয়ারম্যান।
এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে বুধবার(২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ইউনিয়নের মধুরগাতি এলাকায় তার এক সমর্থকক রাশেদুল ইসলাম সান্টুর উপর বোমা হামলা করেছেন বলে দাবি করছেন।
আরও পড়ুন: নড়াইলের বিছালী ইউপি চেয়ারম্যানের ঘেরে যেতে দুই সেতু
জানাগেছে, ঈদের দিন সোমবার(৩১ মার্চ) সকালে নিজ বাড়ি থেকে মধুরগাতী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে যান বিছালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিমায়েত হোসেন ফারুক। নামাজ শেষে চেয়ারম্যান কথা বলার সময় তাকে প্রতিপক্ষ হুমায়ুন মোল্যা স্যান্ডেল নিক্ষেপ করে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে স্থানীয়রা ও পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ ঘটনায় ওই গ্রামের হুমায়ুন, রুহোল, মশিয়ার ও ইমরান ৪ জনের নাম উল্লেখ্য করে থানায় জিডি করেন। জিডি নং ১৪৭৭ তারিখ ৩১ মার্চ ২৫। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে বুধবার রাতে চেয়ারম্যানের সমর্থক সান্টুর উপর বোমা হামলার নাটক সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা বলছে, বুধবার রাতে যেখানে বোমা হামলার কথা বলা হয়েছে সান্টুর বাড়ি যেতে কবরস্থানের পাশে সেখানে পুলিশ যেয়ে বোমা বা ককটেল বিস্ফোরোনের কোন আলামত পায়নি।
হুমায়ুন মোল্যা অভিযোগ করেন, ঈদের দিন নামাজ শেষে কথা বলার সময় বলেন, এ গ্রামে কোন রজনৈতিক ভেদাভেদ নেই আমরা সবাই একত্রে থাকব। এমন বক্তব্য দেয়ার সময় আমি চেয়ারম্যানের উপর স্যান্ডেল ছুড়ে মারি। কারন চেয়ারম্যান আমাকে নাশকতা মামলা দিছে আমি জেলখেটে বের হয়েছি।
এ ঘটনায় আমার নামে জিডি করেছে। স্যান্ডেল মারার প্রতিশোধ নিতে আমাকে ফাঁসাতে বুধবার রাতে তার সমর্থক সান্টুকে বোমা মারা হয়েছে বলে প্রচার করা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আমি চেয়ারম্যানের কাছে মাটি কাটার কাজের প্রায় এক লক্ষ টাকা পাবো। এই টাকা না দিয়ে আমাকে মিথ্যা নাশকতা মামলা দিয়ে জেল খাটিয়েছে। নতুন করে আমাকে ফাঁসাতে বিভিন্ন রকমের চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিছালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিমায়েত হোসেন ফারুক তার উপর স্যান্ডেল নিক্ষেপের বিষয়টি অস্বিকার করে বলেন, আমার উপর ঈদের দিন হুমায়ুন হামলা করে। এসময় স্থানীয়রা তাকে উত্তমমাধ্যম দিয়ে ঈদগাহ থেকে বের করে দেয়।
তিনি সকল অভিযোগ অস্বিকার করে আরও বলেন, সান্টু আমার সাথে চলার কারনে হুমায়ুন মোল্যারা সাথে বিরো চলে আসছে। তবে ঈদের দিনের ঘটনার সাথে বোমা হামলার ঘটনার সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন এই বিএনপি নেতা।
আরও পড়ুন: সংবাদ প্রকাশের জেরে সম্পাদককে মামলার হুমকি হিমায়েত চেয়ারম্যানের
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সূত্র জানায়, ঈদের দিন চেয়ারম্যান হিমায়েত হোসেন ফারুক তার উপর স্যান্ডেল নিক্ষেপের পর থেকে ওই এলাকা দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা চলে আসছে। বুধবার রাতে বোমা হামলার ঘবর শুনে আমরাও ঘটনা স্থলে যায়। তবে ঘটনাস্থল যেখানে বলা হচ্ছে সেখানে বোমা হামলার কোন আলামত পাওয়া যায়নি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, ককটেল বিস্ফোরনের বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ওই এলাকায় মন্টু মোল্যা বলছে কোন কিছুর শব্দ পায়নি আবার সান্টু বলছে কিছুক্ষন আগে আমি ওই রাস্তা দিয়ে বাড়ি আসছি। বাড়ি আসার পরে ককটেলের বিস্ফোরন ঘটেছে। তবে বিষয়টি গভীর ভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।