নড়াইল নিউজ ২৪.কম ডেস্ক:
আওয়ামীলীগের নাম ব্যবহার করে গড়ে ওঠা ভূঁইফোড় সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে হেলেনা জাহাঙ্গীর ও দর্জি মনিরকে আটক করেছে। এরই মধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে যেসব ভুঁইফোঁড় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী তরুণ লীগ। ১৩১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি জেলায় জেলায় কমিটি আছে বিতর্কিত সংগঠনটির। কমিটি আছে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এসব ‘কমিটি নিয়ে বাণিজ্য’ করার পেছনে নাম এসেছে জি এম শফিউল্লাহর, যিনি ভুঁইফোঁড় সংগঠনটির কথিত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, সাতক্ষীরায় জি এম শফিউল্লাহর পরিবারের সদস্যরা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সেখানে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের টাকার বিনিময়ে তরুণ লীগে পদ দিয়েছেন তিনি। আর এসব ‘হাইব্রিড নেতা’কে দিয়েই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হয়রানি করছেন। তাদের ভয়ে কোণঠাসা ক্ষমতাসীন দলটির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
প্রায় ১৯ বছর বয়সী এই সংগঠনের সবশেষ পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি হয় ২০২০ সালের অক্টোবরে। কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আইয়ুবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জি এম শফিউল্লাহ। এই শফিউল্লাহ এর আগের কমিটিরও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছে, আলোচিত এই নেতার গ্রামের বাড়ি শ্যামনগর উপজেলার নুরনগর ইউনিয়নের হাবিবপুর (আগের নাম হরিপুর) গ্রামে। তিনি গ্রামের বাড়ি থাকেন না, মাঝেমধ্যে যান। সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুরে তার একটি তিনতলা বাড়ি আছে, সাততলা বাড়ি আছে রাজধানীর মিরপুরে। জি এম শফিউল্লাহ মূলত রাজধানীতে থাকেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা জানান, শফিউল্লাহ ২০০১ সালে বিদেশে লোক পাঠানোর ‘দালালি’ শুরু করেন। জনশক্তি রপ্তানির কাজে একটা সময় কুয়েত চলে যান, সেখানে কয়েক বছর থাকেন।
আপন বড় ভাই জামায়াত নেতা !
ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতা বলেন, ‘২০০৬ সালে রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকায় এক মোটর মেকানিকের সঙ্গে পরিচয় হয় শফিউল্লাহর। শুনছি তার মাধ্যমেই শফিউল্লাহ তরুণ লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারি হয়। ২০১৬ সালে সে তরুণ লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়।’
তিনি জানান, শফিউল্লাহর বাবার দুই স্ত্রী। তারা মোট সাত ভাই। তবে শফিউল্লাহরা আপন দুই ভাই। তার বড় ভাইয়ের নাম জমাত আলী। তিনি দীর্ঘদিন নুরনগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড শাখা জামায়াতে ইসলামীর ‘দায়িত্বশীল’ পদে ছিলেন। দুই বছর আগে সেই ওয়ার্ডের নায়েবে আমির পদ পেয়েছেন। বর্তমানে এই পদেই আছেন।
শ্যামনগর উপজেলার নুরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জানিয়েছেন, শফিউল্লাহর বড় ভাই জমাত আলীকে নিয়মিতই উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচিতে দেখা যায়। জমাত আলী ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতা।
তার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নুরনগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাইদুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকায় হরিপুর গ্রামের সবাই এখন আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হয়ে গেছেন। গ্রামের লোকজন আগে অন্য কোনো দলে যুক্ত থাকলেও এখন আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউ নেই।’
নুরনগর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. রুহুল আমিন বলেন, ‘তরুণ লীগ নেতা শফিউল্লাহর বড় ভাই জমাত আলী একসময় জামায়াত ভালোবাসত। আমাদের কর্মী ছিল। আমাদের সঙ্গে থাকত। দীর্ঘদিন দলীয় কার্যক্রম না থানায় এখন তো সবাই নিষ্ক্রিয়।’
এ ব্যাপারে শফিউল্লাহর ভাই জমাত আলীর বক্তব্য জানতে কয়েক দিন ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে তবে কথা বলতে পারেনি।
শফিউল্লাহ এলাকায় পরিচিত ‘আদম ভাই’ নামে :
শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, বিদেশে লোক পাঠানোর কাজ করায় ২০০১ সালের দিকেই স্থানীয় লোকজনের কাছে জি এম শফিউল্লাহ পরিচিতি পান আদম শফিউল্লাহ হিসেবে। তাকে অনেকেই ‘আদম ভাই’ বলে ডাকেন। তবে এখন তাকে কেউ আদম ভাই বলে ডাকলে তিনি সাড়া দেন না, রাগ করেন।
আওয়ামী লীগের এই নেতা অভিযোগ করেন, জি এম শফিউল্লাহ বিদেশে লোক পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেকের কাছ থেকেই টাকা নিয়েছেন, কিন্তু বিদেশে পাঠাননি, টাকাও ফেরত দেননি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জি এম শফিউল্লাহ বাংলাদেশ আওয়ামী তরুণ লীগে পদ পাওয়ার পর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কমিটি ও তদবির-বাণিজ্য শুরু করেন। তিনি সাতক্ষীরার মতো দেশের প্রায় সব জেলাতেই বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের তরুণ লীগে পদ দিয়েছেন টাকার বিনিময়ে। এভাবে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। নিজেকে ‘বড় নেতা’ হিসেবে জাহির করতে গিয়ে ফেসবুক পেজে বেসরকারি টিভিতে প্রচারিত প্রতিবেদন বিকৃত করে নিজের ঢোল নিজে পিটিয়েছেন তিনি।
তবে সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী তরুণ লীগের টানা দ্বিতীয় মেয়াদের সাধারণ সম্পাদক জি এম শফিউল্লাহ। তিনি বলছেন, সবই অপপ্রচার।
বিএনপি-জামায়াতের লোকজনের কাছে পদ বিক্রি:
জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, ২০১৩-১৫ সাল পর্যন্ত সাতক্ষীরায় রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের যেসব নেতা-কর্মীর নামে মামলা হয়, তাদের অনেককেই জি এম শফিউল্লাহ তরুণ লীগের পদ ও সনদপত্র দেন টাকার বিনিময়ে। এসব নেতাই পরবর্তী সময়ে হাইব্রিড নেতা হিসেবে পরিচিতি পান। ওই তিন বছরে শুধু সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানায়ই ৩০টির বেশি মামলা হয় সহিংসতার অভিযোগে।
এ ব্যাপারে নুরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শফিউল্লাহ জামায়াত-বিএনপির অনেক মানুষকে সাহায্য করেছে। তাদের সঙ্গে তার সখ্য অনেক বেশি। অনেককেই টাকার বিনিময়ে তরুণ লীগের পদ দিয়েছেন তিনি।’
‘জিয়া নগরের গোল্ডেন’ তরুণ লীগের সভাপতি:
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এই নেতার অভিযোগ, বৈখালী নামের একটা গ্রাম ছিল শ্যামনগরে। বিএনপি আমলে সেই গ্রামের নাম বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নামের সঙ্গে মিল রেখে ‘জিয়া নগর’ করেছিলেন গোল্ডেন নামের এক বিএনপি নেতা।
গোল্ডেন এখন ইতালি থাকেন জানিয়ে সোহেল রানা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই গোল্ডেনকেই বৈখালী ইউনিয়ন তরুণ লীগের সভাপতি বানিয়েছিলেন শফিউল্লাহ। বিনিময়ে নিয়েছিলেন মোটা অঙ্কের টাকা।
‘পরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ব্যাপক প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে তরুণ লীগের ওই কমিটি ভেঙে দিতে বাধ্য হন শফিউল্লাহ। ওই সময়ে নাশকতার মামলার অনেক আসামি বিএনপি-জামায়াতের অনেক লোককে তরুণ লীগের কর্মী বানিয়েছিলেন তিনি।’
তরুণ লীগের চাপে তৃণমূল আওয়ামী লীগ:
নুরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানার অভিযোগ, শফিউল্লাহর স্বজনরা বিএনপি-জামায়াত আমলের মতোই ভালো আছেন। ভালো নেই তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।
তিনি বলেন, ‘তরুণ লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম শফিউল্লাহ তো কেন্দ্রের বড় নেতা। তাদের বাড়ি নুরনগর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে। কিন্তু তাদের পরিবারে তো বিএনপি-জামায়াতের বাইরে কোনো লোক নাই।
‘বিএনপি-জামায়াতের সময় সাধারণ মানুষ তাদের হাতে নির্যাতিত হতো। আবার এখনও মানুষ তাদের ওপরে কথা বলতে পারে না। অথচ তার আপন বড় ভাই জামায়াতের স্থানীয় ওয়ার্ডের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করছে।’
আক্ষেপ করে সোহেল রানা বলেন, ‘আমি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়ে কী আর করব, ভাই। বাপ-দাদারা এই দল করে গেছে। আমিও ছাত্রলীগ, তারপর যুবলীগ আর এখন আওয়ামী লীগ করি। রক্তের ভেতর এই দল আছে বলে এই দল করি। কিন্তু এসব ভুঁইফোঁড় নেতার জন্য আর দল করার কোনো সুযোগ নেই। তাদের জন্য এখন এলাকায় বিরাট সমস্যা হয়ে গেছে। তৃণমূলে আমরা এদের জন্য খুব সমস্যায় আছি, ভাই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেব, এরা তো কেন্দ্রের বড় নেতা দাবি করে। বড় বড় নেতার সঙ্গে তাদের ছবি আছে, তৃণমূল কর্মীরা তো ওই সব ছবি দেখে তাদের বড় নেতা ভাবে। তাদের কারণে আমাদের মতো তৃণমূল নেতারা খুব সমস্যায় আছি।’
শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার বলেন, ‘তরুণ লীগ তো একটা ভুঁইফোঁড় সংগঠন। এদের এই শফিউল্লাহ বহুদিন ধরেই আমাদের এলাকায় দলের নাম ভাঙিয়ে চলছে বলে আমি শুনেছি। এদের বিরুদ্ধে আসলে কেন্দ্র থেকে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। আমিও মনে করি, এদের বিষয়টা নেত্রীর নলেজে আসা উচিত এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’
চাকরি দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ:
শ্যামনগরের সাইদুর রহমান নামে এক যুবক অভিযোগ করে জানান, ২০১৭ সালে জি এম শফিউল্লাহ সরকারি ব্যাংকের পিয়ন পদে চাকরি দেয়ার নামে তার কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা নেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত তিনি চাকরি দিতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘গত ৩-৪ বছর এই ৭০ হাজার টাকা তুলতে তার পেছন ঘুরতে ঘুরতে আমি শেষ। শফিউল্লাহর মিরপুরের বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে বেশ কয়েকবার টাকা চেয়েছি। কিন্তু শফিউল্লাহ আজ দেব কাল দেব বলে এখনো ঘোরাচ্ছে। সালাম নামে আমার এক পরিচিত লোক আছে, সেও চাকরির জন্য শফিউল্লাকে টাকা দিয়েছিল, কিন্তু কাজও হয়নি, আবার টাকাও ফেরত পায়নি।’
সাইদুর আরও বলেন, ‘শুধু আমরা এই দুজনই না, সাতক্ষীরায় আমার মতো এ রকম শতাধিক ভুক্তভোগী আছে, যারা বিভিন্ন কারণে শফিউল্লাকে টাকা দিয়ে ধরা খেয়েছে। কেউ চাকরির জন্য, কেউ বিদেশ যাওয়া জন্য, কেউ মামলা থেকে বাঁচার জন্য।’
শফিউল্লাহকে ধরে নিয়ে যান ভুক্তভোগীরা:
বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে বুধবার সঙ্গে কথা হয় শ্রমিক লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতার। নাম না প্রকাশের শর্তে তিনি জানান, সেনা-সমর্থিত বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসা সম্ভাবনা দেখা দিলে শফিউল্লাহ ২৫ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর ভবনে আসা শুরু করেন। সে সময় পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ‘কাছের লোকের’ সঙ্গে তার খুব ভালো সম্পর্ক হয়। তার মাধ্যমে শফিউল্লাহ বিভিন্ন জায়গায় তদবির-বাণিজ্য করতেন।
শ্রমিক লীগের ওই নেতা বলেন, ‘সে সময় একবার নোয়াখালীর কিছু মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন কাজ করে দেয়ার নামে কয়েক লাখ টাকা নেয় শফিউল্লাহ। কিন্তু তাদের কাজ করে দিতে পারেনি। একপর্যায়ে তারা গুলিস্তান এলাকা থেকে শফিউল্লাহকে তুলে নিয়ে যায়। পরে আমরা খবর পেয়ে নোয়াখালী থেকে শফিউল্লাহকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। তখন থেকেই আমরা জানি, শফিউল্লাহ এ রকম ধান্দাবাজি করে চলে।’
শফিউল্লাহর গাড়ি-বাড়ি:
সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাতক্ষীরা সদরের রসুলপুর এলাকায় শফিউল্লার একটি তিনতলা বাড়ি আছে। এ ছাড়া রাজধানীর মিরপুরে সনি সিনেমা হলের পেছনে তার একটি সাততলা বাড়ি আছে। এই বাড়ির কিছু ফ্ল্যাট নির্মাণকারী রিয়েল স্টেট কোম্পানির, আর কিছু শফিউল্লাহর। শফিউল্লাহ সব সময় একটি প্রাইভেট কারে চড়েন, যেটি তার কেনা।
ঠিকানা আছে ফেসবুকে, বাস্তবে নেই:
জি এম শফিউল্লাহ সম্প্রতি কিছু মেমোরি শেয়ার করেছেন তার ফেসবুক পেজে। এর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তরুণ লীগ আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন তিনি। ভিডিওটি ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর শেয়ার করা হয় ‘প্রচারে তরুণ লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি’ নামের পেজ থেকে।
এই পেজই বাংলাদেশ আওয়ামী তরুণ লীগের ফেসবুক পেজ। এই পেজের পরিচয় অংশে লেখা আছে, বাংলাদেশ আওয়ামী তরুণ লীগ, কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত ও প্রকাশিত। প্রচার ও প্রকাশনায় মো. মুক্তার হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক। সংগঠনটির ঠিকানা দেয়া আছে ২৫ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, ৪র্থ তলা, গুলিস্তান, ঢাকা-১০০০।
তবে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ ঘুরে জানতে পেরেছে, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর ২৫ নম্বর ভবনের নিচতলায় রয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কার্যালয়। আর ২য় তলায় রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের অফিস। বহুতল এই ভবনের কোথাও বাংলাদেশ আওয়ামী তরুণ লীগের কোনো অফিস পাওয়া যায়নি।
যুবলীগের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী জানান, ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর ভবনটি পুনর্নির্মাণের সময় ২৫ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর ভবনটি যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে নেয়া হয়। ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভবন পুনর্নির্মিত হওয়ার পর ২৫ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর ভবনটি নিচতলা ছেড়ে দেয়া হয় ঢাকা মহানগর যুবলীগের জন্য। আর যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অফিস ফিরিয়ে আনা হয় ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর নতুন ভবনে। ২৫ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের অফিস। এই ভবনে তরুণ লীগ নামে কোনো সংগঠন নেই।
[caption id="attachment_8051" align="aligncenter" width="300"]
ছবি সংগৃহীত[/caption]
সব অভিযোগই অস্বীকার জি এম শফিউল্লাহর:
আপনার আপন বড় ভাই ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বড় ভাই জামায়াতের নায়েবে আমির, এটা মিথ্যা কথা। আমার ব্যক্তিগত শত্রুরা এসব কথা বলছে।’ সনি সিনেমা হলের পেছনে আপনার সাততলা বাড়ি আছে কি না, জানতে চাইলে শফিউল্লাহ বলেন, ‘এটাও মিথ্যা কথা।’
তাহলে সত্যটা কী, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ফোনে এসব কথা বলা যাবে না, লকডাউন চলে যাক। একদিন আপনার সঙ্গে বসে কথা বলা যাবে।’
বিদেশ পাঠানোর নামে আপনি মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দিচ্ছেন না, এ অভিযোগের বিষয়ে শফিউল্লাহ বলেন, ‘আমার শত্রুরা এসব অভিযোগ করে। কিন্তু এগুলো সত্য না।’
তরুণ লীগ কি আওয়ামী লীগের সংগঠন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি সংগঠন করতে। আমরা ৭২ পৃষ্ঠার একটা বই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দিয়েছি। এখন আমরা কমিটি দেই না। ১০ বছর আগে আমরা কমিটি দিয়েছি।’
তা হলে ২০২০ সালের কমিটির সাধারণ সম্পাদক হলেন কীভাবে, এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান জি এম শফিউল্লাহ।
আপনাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় কোথায়, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের অফিস ২৫ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে। যারা বলছে এখানে আমাদের অফিস নেই, তারা ভুল বলছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করছে, তাদের আমি চিনিই না। আমার ব্যক্তি শত্রু থাকতে পারে, দলের শত্রু থাকতে পারে, আত্মীয় শত্রু থাকতে পারে, তারাই আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করছে।’
আপনার কী কী সম্পদ আছে, জানতে চাইলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন জি এম শফিউল্লাহ।
এব্যাপারে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘এই তরুণ লীগ একটা ভুঁইফোঁড় সংগঠন। আওয়ামী লীগের দৃষ্টিতে আমরা এসব সংগঠনকে আগাছা হিসেবেই চিহ্নিত করে ফেলেছি। এদের সঙ্গে আমাদের দলের কোনো সম্পর্ক নাই। সুবিধাবাদী শ্রেণির মানুষরাই এসব ভুঁইফোঁড় সংগঠন করে থাকে। কোনো ভালো মানুষ এসব ভুঁইফোঁড় সংগঠন করতে পারে না।