স্টাফ রিপোর্টার:
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বিভিন্নস্থানে এলাকার আধিপথ্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কোন্দল লেগেই আছে। সম্প্রতি নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক সফল ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এলাকায় মিঠিং করে সংঘর্ষে না জড়ানোর জন্য হুশিয়ারি উচ্চারন করেন। অপরদিকে পুলিশ সুপার এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে সভা করে আসলেও কাউকেউ তোয়াক্কা করছেন না স্থানীয় গ্রাম্য মতব্বরা। সকলের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে লিপ্ত হয়েছেন সংঘর্ষে। চালিয়েছেন ঘরবাড়ি ভাংচুরও। এতে নেতৃত্বদানকারীদের খুটির জোর নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সচেতন মহলে।
জানাগেছে, লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের ব্রাহ্মণডাঙ্গা, চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা, বাড়ীভাঙ্গা ও হান্দলা গ্রাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন নাজির মোল্যা ও মাহাবুব মোল্যা। অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দেন তাইজুল মোল্যা ও জাকির মেম্বর।
সম্প্রতি মাহাবুব নামে একজন মাতুব্বরের ওপর হামলা করেন তাইজুল মাতুব্বরের গ্রুপের লোকজন। এরপর থেকে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
[caption id="attachment_1445" align="aligncenter" width="300"]
গত ২৪মে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সভা করেন পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়। ছবি:- নড়াইল নিউজ ২৪.কম[/caption]
এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে নড়াইলের পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় গত ২৪ মে ব্রাহ্মণডাঙ্গা মাদ্রাসা মাঠে শান্তি মিটিং করেন। পুলিশ সুপার বক্তব্যকালে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে উভয়পক্ষকে আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে লোহাগড়া থানার সদ্য বিদায়ী ওসি সৈয়দ আশিকুর রহমান, নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম কালু, সাবেক চেয়ারম্যান ফয়জুল হক রোম, সাবেক চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নূরনবী সহ উভয় দলের স্থানীয় মাতুব্বর ও তাদের সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। তবে পুলিশ সুপারের সেই অনুরোধ রক্ষা করেননি এলাকার একটি গ্রুপ। যার কারনে এলাকাটি আবারও অশান্ত হয়ে পড়েছে।
[caption id="attachment_1447" align="aligncenter" width="300"]
চরব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের প্রতিপক্ষে হামলায় আহত শিশু তালহা। ছবি:- নড়াইল নিউজ ২৪.কম[/caption]
এঘটনার পর বুধবার (২ জুন) ফজরের আযানের পরই চরব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের শামীমুর রহমান বুলুর বাড়িতে হামলা চালিয়ে শিশু আবু তালহাদের বাড়িতে হামলা চালায় এলাকার প্রতিপক্ষরা। গ্রাম্য কোন্দলের জের ধরে ওই হামলায় শিশু আবু তালহা রক্ষা পায়নি। ঘুমন্ত অবস্তায় তালহার কপাল ও মাথায় ইটের আঘাত লাগে। প্রতিপক্ষের লোকজন ঢাল, সড়ক, ইট পাটকেলসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রাদি নিয়ে ওই বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাংচুর করে। এসময় পরিবারের সদস্যরা ঘরের মধ্যে পালিয়ে জীবন রক্ষা করে। হামলাকারীরা চলে যাবার পর শিশুটিকে নড়াইল সদর হাসপতাালে ভর্তি করা হয়।
এর আগে ১জুন বিকালে ব্রাহ্মণডাঙ্গা বাজারে চায়ের দোকানদার জিয়ার ওপর লাঠিসোটা, হাতুড়ী ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে নাজির মোল্যা গ্রুপের লোকজন। বেপরোয়াভাবে মারধর করে ফেলে রেখে যায় চায়ের দোকানী জিয়াকে। ঠেকাতে গিয়ে জিয়ার ছোট ভাই মিলন আহত হন। দুজনকেই নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অপরদিকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে লোহাগড়া উপজেলার পাংখারচর গ্রামে বাড়িঘর ভাংচুর এবং টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৩০মে রাত ১২টার দিকে পাংখারচর গ্রামের বুলবুল কাজী গ্রুপের পাঁচটি বাড়িতে প্রতিপক্ষের লোকজন ব্যাপক ভাংচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্থরা।
[caption id="attachment_1449" align="aligncenter" width="300"]
পাংখারচর এলাকায় প্রতিপক্ষের হামলায় বাড়ি-ঘর ভাংচুরের দৃশ্য। ছবি:- নড়াইল নিউজ ২৪.কম[/caption]
এই এলাকার সংঘাত মেটাতে গত ১৮ মে বিকেলে ওই এলাকায় যান নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা। দুইপক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে এলাকার দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিয়ে কড়া হুশিয়ারি দেন তিনি। এরপর মাত্র ১৩ দিনের ব্যবধানে নড়াইলের পাংখারচর এলাকায় আবার বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটল।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের পাংখারচর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বুলবুল কাজী ও লিচু কাজী গ্রুপের লোকজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে আসছে দির্ঘদিন যাবৎ।
লোহাগড়া থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ মাহমুদুর রহমান বলেন, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি আপাতত শান্ত আছে।
পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় নড়াইল নিউজ ২৪.কমকে বলেন, আমি ওই এলাকার সমস্যা সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে আমার অফিসে ডেকে এবং ওই এলাকায় মিঠিং করে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা করেছি। কোন সমস্যা হলে পুলিশ প্রশাসনকে জানানোর জন্য অনুরোধ করেছিলাম তা না শুনে মারামারিতে লিপ্ত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে কোন ছাড় দেওয়া হবেনা বলেও জানান তিনি।