স্টাফ রিপোর্টার, নড়াইল
নড়াইলে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পতনে ছাত্রজনতার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের উপর হামলাকারীদের নিরাপদ আশ্রয় স্থলে পরিণত হয়েছে দক্ষিন নড়াইল গ্রামের বিল পাড়ার ছাত্রলীগ নেতা শাকিল মোল্লা ও তার ভাই আরমান মোল্লার বাড়ি।
নাশকতা মামলায় শাকিল মোল্লা জেল হাজতে কারা বরন শেষে বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। জামিনে বের হয়ে তার ভাই আরমান মোল্লাকে সাথে নিয়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের একত্রিত করে নাশকতা সৃষ্টি করার পায়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি নড়াইল শহরে একটি ঝটিকা মিছিল করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মিছিলের আগের দিন রাতে নড়াইল শহরের দক্ষিন নড়াইল গ্রামের শাকিল ও আরমানের বাড়িতে গোপন মিটিং করে নাশকতাকারীরা। বিষয়টি প্রকাশ পেলে নড়াইল সদর থানা পুলিশ শাকিল মোল্লাকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। শাকিল কারাগার থেকে সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়েছে। জামিনে মুক্ত হয়ে আরও বেশি উগ্র হয়ে উঠেছে ছাত্রলীগ নেতা ভাই আরমান মোল্লাকে সাথে নিয়ে। নড়াইলে বিভিন্ন স্থানে থাকা ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে আরমানের প্রতিবেশিরা জানান, মাঝে মাঝে আরমানের বাড়ি ৬-৭জন সাবেক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গভীর রাতে আসে এবং খুব সকালে চলে যায় তারা। ওই বাড়িতে থেকে শহরে নতুন করে নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সূত্র জানায়।
এলাকাবাসী জানায়, শাকিল ও আরমান নড়াইল জেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এক নেতার ক্যাডার হিসাবে পরিচিত ছিল। তাদের নেতা বর্তমানে ভারতে পালালেও তারা এখনও নড়াইল শহরে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। গেল বছর জুলাইয়ে ছাত্রজনতার আন্দোলনের উপর নড়াইল চৌরাস্তায় এবং নুরী বটতলা, দেবভোগ এলাকায় শাকিল ও আরমান হামলা চালায়। সেই মামলায় ছাত্রজনতা আন্দোলনের উপর সরাসরি হামলাকারী হিসাবে তাদের দুই ভাইয়ের নামে একটি মামলা দায়ের হয়। এমপি ২১৬/২৪ মামলার এজাহারে দেখা যায় ১৭ নং আসামী হিসাবে মো: আরমান মোল্লার নাম এবং ১৮ নং আসামী হিসাবে সাকিল মোল্লার নাম রয়েছে। মামলার অভিযোগে দেখা যায় আরমান মোল্লার হাতে থাকা শটগান দিয়ে গুলি করলে ঐ গুলি মামলার বাদীর মটরসাকেলে লাগে। অভিযোগ রয়েছে প্রভাবশলী এক ব্যাক্তিকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে মামলা থেকে তাদের নাম বাদ দিয়েছেন। এলাকাবাসী তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।