১৮ বছর পর বিচারিক আদালত হাইকোর্টের নির্দেশনা মানতে শুরু করেছে ১৮ বছর পর বিচারিক আদালত হাইকোর্টের নির্দেশনা মানতে শুরু করেছে – Narail news 24.com
রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ০৯:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা-নয়াদিল্লি উভয়ের জন্য টেকসই ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে যৌথ দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্মত – প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসায় ভারতের রাষ্ট্রপতি চার জেলায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে ভাঙ্গা-নড়াইল-যশোর রেল লাইন লোহাগড়া উপজেলা ও পৌর যুবলীগের সম্মেলন ৬ জুলাই লোহাগড়ায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৩ জনকে কুপিয়ে যখম সবুজ বাংলাদেশ গড়তে সারাদেশে সাধ্যমতো গাছ লাগাতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সেন্টমার্টিনে মিয়ানমারের গোলাগুলি, প্রয়োজনে জবাব দেয়া হবে – ওবায়দুল কাদের ঈদের ছুটিতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে অধিদপ্তরের যে নির্দেশনা মানতে হবে অবসরকালীন সময়ে জন্মভূমি মধুমতী পাড়ে আসব – সেনা প্রধান জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ কালিয়ায় গুলিতে আহত-২, বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

১৮ বছর পর বিচারিক আদালত হাইকোর্টের নির্দেশনা মানতে শুরু করেছে

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

নড়াইল নিউজ ২৪.কম ডেস্ক:

হাইকোর্টের দেয়া ১৫ দফা নির্দেশনা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর পর মানতে শুরু করেছে বিচারিক আদালতগুলো। ১৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে আদালতগুলো এসব নিয়ম তাদের আদেশের সঙ্গে যুক্ত করতে শুরু করেছে। এর আগে আসামিদের রিমান্ড আদেশের ক্ষেত্রে এমনটি দেখা যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

সম্প্রতি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শামসুন নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনিকে দেয়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিমান্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আইনজীবী জেড আই খান পান্না একটি রিট আবেদন করেন। সেটির সূত্র ধরে রিমান্ড সংক্রান্ত পুরনো নির্দেশনার বিষয়টি আবারও উঠে এসেছে।

এসব নিয়মের মধ্যে আছে, আসামিকে রিমান্ডে নেয়ার আগে সরকারি ডাক্তার অথবা মেডিক্যাল বোর্ড দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে এবং রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া রিমান্ড শেষে একইভাবে ওই আসামির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সে প্রতিবেদনসহ আসামিকে আদালতে হাজির করতে হবে। রিমান্ড আদেশকারী সব বিচারিক হাকিম এখন তাদের আদেশের সঙ্গে এসব বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করছেন।

১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড ট্রাস্টসহ (ব্লাস্ট) কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা রিমান্ড প্রশ্নে হাইকোর্টে ১৫টি নির্দেশনা চেয়ে একটি রিট করে। এটি করা হয় সন্দেহজনক গ্রেপ্তার সংক্রান্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা এবং রিমান্ড সংক্রান্ত ১৬৭ ধারার অপব্যবহাকে চ্যালেঞ্জ করে।

২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ সংক্রান্ত প্রচলিত আইন সংশোধনের নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশনা আপিল বিভাগ স্থগিত করেনি। তবে নির্দেশগুলো মানার ব্যাপারে শিথিলতা দেখা যাচ্ছিল বলে জানান আইনজীবীরা।

হাইকোর্টের নির্দেশনায় বলা হয়, শুধু আটকাদেশ (ডিটেনশন) দেয়ার জন্য পুলিশ কাউকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করতে পারবে না, কাউকে গ্রেপ্তার দেখানোর সময় পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে, গ্রেপ্তারের কারণ একটি পৃথক নথিতে পুলিশকে লিখতে হবে, গ্রেপ্তারকৃতদের শরীরের আঘাতের চিহ্ন থাকলে তার কারণ লিখে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারি সনদ আনবে পুলিশ, গ্রেপ্তারের তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে হবে পুলিশকে, বাসা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে যদি কাউকে আটক করা হয় তাহলে আটক ব্যক্তির নিকটাত্মীয়কে এক ঘণ্টার মধ্যে টেলিফোন বা বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে বিষয়টি জানাতে হবে।

এ ছাড়া আটক ব্যক্তিকে তার পছন্দসই আইনজীবী ও নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে পরামর্শ করতে দিতে হবে, জিজ্ঞাসাবাদের (রিমান্ড) প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে কারাগারের কাঁচ নির্মিত বিশেষ কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে এবং কক্ষের বাইরে তার আইনজীবী ও নিকটাত্মীয় থাকতে পারবেন। কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া না গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে সর্বোচ্চ তিন দিন পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন এবং এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত কারণ থাকতে হবে।

জিজ্ঞাসাবাদের আগে ও পরে ঐ ব্যক্তির ডাক্তারি পরীক্ষা করতে হবে, পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গে সঙ্গে মেডিকেল বোর্ড গঠন করবেন এবং বোর্ড যদি বলে ওই ব্যক্তির ওপর নির্যাতন করা হয়েছে তাহলে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং তাকে দণ্ডবিধির ৩৩০ ধারায় অভিযুক্ত করা হবে, পুলিশ হেফাজতে বা কারাগারে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি মারা গেলে সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে, পুলিশ বা কারা হেফাজতে কেউ মারা গেলে ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গে সঙ্গে তা তদন্তের ব্যবস্থা করবেন, মৃত ব্যক্তির ময়নাতদন্ত করা হবে, ময়নাতদন্তে বা তদন্তে যদি মনে হয়, ওই ব্যক্তি কারা বা পুলিশ হেফাজতে মারা গেছে তা হলে ম্যাজিস্ট্রেট মৃত ব্যক্তির আত্মীয়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তা তদন্তের নির্দেশ দেবেন।

১৯৯৮ সালে ডিবি অফিসে হেফাজতে মারা যান ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র শামীম রেজা রুবেল। এর সূত্র ধরেই ব্লাস্ট ওই রিট আবেদন করে। শুনানি শেষে ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল এক রায়ে হাইকোর্ট ছয় মাসের মধ্যে ফৌজদারি আইন সংশোধন করতে সরকারকে ১৫ দফা নির্দেশনা দেয়। ২০১৬ সালের ২৫ মে ওই রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

এই ধারাগুলো সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত রায় ঘোষণার পর থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কর্তৃপক্ষকে ১৫ দফা নির্দেশনা মেনে চলতে নির্দেশ দেয় আদালত।

কিন্তু নিম্ন আদালতের বিচারিক হাকিমরা এতদিন এ নির্দেশনা মেনে তাদের আদেশ দিচ্ছিলেন না। হাকিমরা আদালতে অনেক আদেশ না দিয়ে বলেন, আদেশ পরে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পারভেজ হাসেম বলেন, এসব ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে কারো দোষ দিলে চলবে না। যুক্তি-বুদ্ধি দিয়ে কৌসুলি হয়ে আইনজীবীদেরকেও বিষয়টি আদায় করে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে একটু ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট আইনি অবস্থান গ্রহণ করতে চান।

আইনজীবীরা বলছেন, উচ্চ আদালতের দেয়া নির্দেশনা যাতে পালন হয়, সে বিষয়ে আদালতগুলোর অভ্যেস গড়ে তোলারও একটি বিষয় রয়েছে।

© এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

ফেসবুকে শেয়ার করুন

More News Of This Category
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin
x