ভারতে যৌন নির্যাতন: টিকটকের আড়ালে মানব পাচার করতো হৃদয়রা ভারতে যৌন নির্যাতন: টিকটকের আড়ালে মানব পাচার করতো হৃদয়রা – Narail news 24.com
বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নড়াইলে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা প্রদান   নড়াইলে দলিত জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদের সাথে গণশুনানি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিলেন শি জিনপিং ঢাকা-বেইজিং ২১টি দলিল সই এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত করতে ৭টি প্রকল্প ঘোষণা প্রশ্নফাঁসে জড়িত সেই ৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে দুদকে চিঠি দিলো পিএসসি নড়াইলে জাতীয় কাবাডি চ্যাম্পিয়ানশীপের ফাইনাল খেলা অনুষ্টিত ভারতের সাথে দেশ বিরোধী চুক্তি বাতিল,দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কর্মচারিদের সম্পদের হিসাব দাখিলের নির্দেশ হাইকোর্টের পেনশন স্কিম প্রত্যয়-এর প্রাসঙ্গিক বিষয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা

ভারতে যৌন নির্যাতন: টিকটকের আড়ালে মানব পাচার করতো হৃদয়রা

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৯ মে, ২০২১

 নড়াইল নিউজ ২৪.কম ডেস্ক:

ভারতে তরুণীকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় রিফাতুল ইসলাম হৃদয়সহ গ্রেপ্তার যুবকরা আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য। বিশেষ করে টিকটকের মাধ্যমে উঠতি বয়সী স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের টার্গেট করতো এই গ্রুপের সদস্যরা। পরে তাদের ভারতসহ বিভিন্ন জায়গায় পাচার করা হতো।

শনিবার বিকেলে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. শহিদুল্লাহ রাজধানীর শ্যামলীতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

শহিদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশি তরুণীকে নৃশংস যৌন নির্যাতনের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ও ভারতের পুলিশ খুবই দ্রুততার সঙ্গে তদন্তে নেমে আসামি ও ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করে। ইতোমধ্যে ভারতে ছয়জন গ্রেপ্তার হয়েছে। তারা সবাই আন্তর্জাতিক নারী পাচার গ্রুপের বলে নিশ্চিত হয়েছি।

তিনি জানান, এই চক্রের সদস্যরা বাবা-মায়ের অবাধ্য স্কুল-কলেজের বখে যাওয়া ছেলে-মেয়েদের টার্গেট করতেন। বিশেষ করে টিকটক গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করে তারা পাচার কাজে সহযোগিতা করছিলেন।

উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শহিদুল্লাহ আরো জানান, পাঁচজন বাংলাদেশির সবাই অবৈধভাবে সেখানে গিয়েছিল। তাদের কারো পাসপোর্ট কিংবা ভিসা ছিল না। তাদেরকে পুলিশের এনসিবির মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

ডিসি শহিদুল্লাহ বলেন, এ ঘটনায় ভারতেও মামলা হয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশের মামলার প্রধান আসামিও টিকটক হৃদয়, তাই তাকেসহ অন্য সহযোগীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

মো. শহিদুল্লাহ বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, ভারতে গ্রেপ্তার টিকটক হৃদয় টিকটকের একটি গ্রুপের অ্যাডমিন। সেই গ্রুপের মাধ্যমে গত বছরের শেষের দিকে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলার একটি রিসোর্টে ৭০০ থেকে ৮০০ তরুণ-তরুণী পুল পার্টিতে অংশ নেয়।

‘মূলত টিকটক ভিডিও তৈরি করতে গিয়ে তরুণ-তরুণীরা পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হয়ে একটি ফেসবুক গ্রুপে সংযুক্ত হয়। যে ফেসবুক গ্রুপটির মূল পৃষ্ঠপোষক এই আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রটি। যাদের মূল আস্তানা ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর আনন্দপুর এলাকায়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এই গ্রুপে সুনির্দিষ্ট কিছু ছেলে গ্রুপের নারী সদস্যদের ভারতের বিভিন্ন মার্কেট, সুপার শপ, বিউটি পার্লারে ভালো বেতনে চাকরির অফার দিয়ে প্রলোভনে ফেলে ভারতে পাচার করছিল।

‘মূলত পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত করার উদ্দেশেই বিভিন্ন বয়সের মেয়েদেরকে ভারতে পাচার করা হয়। এই চক্রটি ভারতের কয়েকটি রাজ্যের কিছু হোটেলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। হোটেলগুলোতে চাহিদা মাফিক বিভিন্ন বয়সের মেয়েদের নিয়মিতভাবে সরবরাহ করা হয় বলে আমরা তথ্য পেয়েছি।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতে গ্রেপ্তার হৃদয় ঢাকার মগবাজার এলাকার বাসিন্দা। এলাকায় ‘টিকটক হৃদয় বাবু’ নামে পরিচিত। তিনি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। এরপরে পড়াশোনা ছেড়ে বন্ধুদের নিয়ে টিকটক ভিডিও তৈরিতে জড়িয়ে পড়েন।

সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক তরুণীকে বিবস্ত্র করে শারীরিক ও যৌন নিপীড়ন করছে তিন-চার যুবক ও একটি মেয়ে। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, নির্যাতনের ঘটনাটি ভারতের কেরালার। তবে ভিকটিম ও নিপীড়কদের একজন বাংলাদেশি নাগরিক।

পুলিশের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে যৌন নিপীড়নকারী যুবকদের একজন হলেন ‘টিকটক হৃদয় বাবু’। ভারতে পুলিশের অভিযানে পালানোর সময়ে গুলিতে আহত হন হৃদয় ও তার এক সহযোগী। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার আছেন।

তরুণীদের যেভাবে ফাঁদে ফেলে ভারতে নেয়া হতো:

বাংলাদেশের উঠতি তরুণ-তরুণীদের একটি অংশ এখন টিকটকসহ বিভিন্ন মিউজিক অ্যাপসমুখী। আর এই অ্যাপসকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিভিন্ন গ্রুপ। গ্রুপের মাধ্যমে করা হয় বিভিন্ন আয়োজন। এখানেই মানবপাচার চক্রের জাল বিছিয়েছেন হৃদয়। এই গ্রুপের দায়িত্ব প্রাপ্তরা গ্রুপের নারী সদস্যদের ভারতের বিভিন্ন মার্কেট, সুপার শপ, বিউটি পার্লারে ভালো বেতনে চাকরির অফার দিয়ে প্রলোভনে ফেলতেন। এরপর নানা কৌশলে ভারতে নিয়ে যেতেন তারা। সেখান থেকে নেয়া হতো ব্যাঙ্গালুরুর আনন্দপুরায়। পরে কৌশলে নেশাজাতীয় বা মাদকদ্রব্য সেবন করিয়ে বা জোর করে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করতেন। এরপর ওই নারীদের হুমকি দেয়া হতো যে, তারা অবাধ্য হলে বা পালানোর চেষ্টা করলে এই ভিডিও তাদের পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

© এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

ফেসবুকে শেয়ার করুন

More News Of This Category
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin
x