ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ওষুধ আছে, শঙ্কা উচ্চমূল্য আর সরবরাহে ! ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ওষুধ আছে, শঙ্কা উচ্চমূল্য আর সরবরাহে ! – Narail news 24.com
বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সবুজ বাংলাদেশ গড়তে সারাদেশে সাধ্যমতো গাছ লাগাতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সেন্টমার্টিনে মিয়ানমারের গোলাগুলি, প্রয়োজনে জবাব দেয়া হবে – ওবায়দুল কাদের ঈদের ছুটিতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে অধিদপ্তরের যে নির্দেশনা মানতে হবে অবসরকালীন সময়ে জন্মভূমি মধুমতী পাড়ে আসব – সেনা প্রধান জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ কালিয়ায় গুলিতে আহত-২, বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগ প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর একটি আইএমইআই নম্বরে দেড় লাখ মোবাইল ফোন ! নড়াইলে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একজনকে হত্যার অভিযোগ নড়াইলে সেমিনার অনুষ্ঠিত নড়াইলে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যনদের দায়িত্ব গ্রহন

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ওষুধ আছে, শঙ্কা উচ্চমূল্য আর সরবরাহে !

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৬ মে, ২০২১

 নড়াইল নিউজ ২৪.কম ডেস্ক:

করোনা মহামারির মধ্যে ভারতে ব্যাপক হারে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা কালো ছত্রাক ছড়িয়ে পড়া এবং বাংলাদেশেও একই রোগী শনাক্তের পর নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে আতঙ্কে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এটি দেশে নতুন কোনো রোগ নয়। এই রোগী আগেও ছিল। এর চিকিৎসাও অজানা নয়, ওষুধও আছে। আর সেটি উৎপাদন হয় দেশেই। তবে চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল। একেকটি ইনজেকশনের দাম ১৫ হাজার টাকা। দিতে হয় অনেকগুলো। পাশাপাশি রোগীকে হাসপাতালে থাকতে হয় চার থেকে ছয় সপ্তাহ।

“জটিল অবস্থা তৈরি হলে ছয় সপ্তাহে ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে কেবল ইনজেকশনে। দেশে একটিমাত্র কোম্পানি ওষুধটি উৎপাদন করে, যাদের উৎপাদনক্ষমতা খুব বেশি নয়। সরকার চাইলে অন্য কোম্পানিও সেটি উৎপাদন করুক। এ জন্য চলছে আলোচনা”

সমস্যা হচ্ছে উৎপাদন করে একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান। ওষুধের আর চাহিদা বাড়লে তারা সামাল দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে আছে সংশয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে রোগটির নাম মিউকরমাইকোসিস। করোনাকালে ভারতে এটি এত ছড়িয়েছে যে একে মহামারি ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সেখানে রোগটি ছড়াচ্ছে করোনা থেকে সেরে উঠার পর।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, করোনা থেকে মুক্ত হলেও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে পেতে সময় লাগে বেশি। আর এই দুর্বল সময়ে আঘাত হাতে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। আর এই রোগে মৃত্যুর হার খুবই বেশি; শতকরা ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত মৃত্যুর তথ্য আছে।

দেশে নতুন করে দুই জন রোগী পাওয়া গেছে যারা এই ছত্রাকে আক্রান্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। অন্য এক জন বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অজানা নয় চিকিৎসা:

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শরফুদ্দিন আহমেদ জানান, এই রোগের চিকিৎসা হয় চার ভাগে। আক্রান্ত ব্যক্তির যদি ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে প্রথমে সেটি নিয়ন্ত্রণে নিতে হয়। রোগী আগে থেকে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করলে সেটিও অনেক কমিয়ে দিতে হবে।

এমন কিছু রোগের ক্ষেত্রে রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমানোর ওষুধও দিতে হয়। তবে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস আক্রান্ত হলে সেসব ওষুধও বন্ধ রাখতে হয়।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসবিরোধী একটি ইনজেকশন আছে। সেটি প্রয়োগের পাশাপাশি কোনো স্থানে যদি ক্ষত তৈরি হয়, সেই ক্ষতটি কেটে ফেলতে হয়। চোখে ক্ষত হলে চোখও তুলে ফেলতে হয়। নার্জাল এন্ডোস্কোপি করে যদি ব্ল্যাক ফাঙ্গাস প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হয় তাহলে বিদ্যুৎ শকও দেয়া হয়।

চিকিৎসা ব্যয়বহুল:

মৃত্যুহার যেমন বেশি, তেমনি সমস্যা হচ্ছে এর চিকিৎসার খরচ। চার থেকে ছয় সপ্তাহ রোগীকে ফলোআপে রাখতে হয় আর এই সম্পূর্ণ সময়টি হাসপতালে ভর্তি থেকেই চিকিৎসা নিতে হবে বলে জানাচ্ছেন অধ্যাপক শরফুদ্দিন। এত দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকলে যে খরচ তা অনেকের পক্ষেই সামাল দেয়া কঠিন। যে ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়, তার একেকটির দাম ১৫ হাজার টাকা। দেশে সংকট দেখা দিলে ওষুধের দাম বৃদ্ধির অতীত ইতিহাস আছে।

বারডেম হাসপাতালে যে দুই জন রোগীর চিকিৎসা চলছে, তাদের তত্ত্বাবধান করা চিকিৎসক দেলোয়ার হোসেন জানান, এই ইনজেকশন দিতে হয় স্যালাইনের মাধ্যমে। দিনে দুই থেকে তিনটিও লাগে কখনও কখনও। দুই সপ্তাহ থেকে ছয় সপ্তাহে এই ইনজেকশন দিতে হয়। দিনে দুটি লাগলেও যদি দুই সপ্তাহ দিতে হয়, তাহলে কেবল ইনজেকশনের খরচ দাঁড়ায় দুই লাখ ১০ হাজার, আর যদি ছয় সপ্তাহ দিতে হয় তাহলে খরচ হবে ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

তিনটি করে লাগলে দুই সপ্তাহে ইনজেকশনের পেছনে খরচ হবে তিন লাখ ১৫ হাজার, আর ছয় সপ্তাহে ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম ব্রিফিং করে জানিয়েছেন, এই চিকিৎসার ব্যয় কমানোর উপায় খুঁজছেন তারা। এরইমধ্যে বিভিন্নভাবে আলোচনা করা হচ্ছে। এই ছত্রাক বৃদ্ধি পেলেও যাকে ওষুধের দাম না বাড়ে সেই বিষয়ে সর্তকবার্তা দেয়া হয়েছে।

উৎপাদনক্ষমতা বেশি নয়:

বাংলাদেশে যে কোম্পানি ইনজেকশনটি উৎপাদন করে, এর উৎপাদন ক্ষমতা খুব বেশি নয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন বলেছেন, ‘কম সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় ওষুধের উৎপাদন কম। হঠাৎ সংক্রমণ বাড়লে ওষুধ প্রাপ্তি নিয়ে শঙ্কা আছে।’ যে কোম্পানিটি ওষুধ উৎপাদন করে, সেটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। তাদের শেয়ার দর কখনও বেশি ছিল না। তবে সম্প্রতি উত্থান ঘটেছে কোম্পানির আয় ও শেয়ারমূল্যে।

এই ইনজেকশনের চাহিদা পূরণ করলে সরবরাহ করতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নে কোম্পানি সচিব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটি আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়।’ তিনি অন্য একটি নম্বর দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন কোম্পানি সচিব।

কোম্পানির ব্যবস্থাপক (উৎপাদন) মাসুম বিল্লাহ নামে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ইঞ্জেকশনের চাহিদা সম্প্রতি ১০ থেকে ১৫ গুণ বেড়েছে। এখনও যে চাহিদা আছে সেটা পূরণে সক্ষমতা আমাদের আছে। তবে চাহিদা বাড়লে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নাও হতে পারে।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালের স্বপন সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস প্রতিরোধী ওষুধ তৈরি করতে বিভিন্ন কোম্পানিকে বলা হয়েছে। এ জন্য আলোচনা চলছে। তবে এর অগ্রগতি কী, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম কিছু জানাতে পারেননি।

চিকিৎসায় গাইডলাইন তৈরি হচ্ছে:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের বিষয়ে করোনা প্রতিরোধে গঠিত কারিগরি পরামর্শক কমিটিকে বলা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করছেন। তারা একটি পরামর্শ চূড়ান্ত করবেন। এ নিয়ে আমরা কথা বলেছি নিজেদের মধ্যে।

‘এরই মধ্যে আমরা সারা দেশে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছি। আনুষ্ঠানিকভাবে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের চিকিৎসা ব্যবস্থা কেমন হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি কাজ চলছে শেষ হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সারাদেশে পাঠানো হবে’- বলেন নাজমুল ইসলাম।

ছোঁয়াচে নয় ব্ল্যাক ফাঙ্গাস:

কিছুটা স্বস্তির বার্তা হলো হলো, চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ‘পার্সন টু পার্সন’ অর্থাৎ মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। তার পরেও সতর্ক থাকতে হবে এই ছত্রাক নিয়ে। বারডেম হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এম দেলোয়ার হোসেন বলেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস যে কেবল করোনার কারণেই হবে সেটা নয়। ‘হসপিটাল অ্যাকোয়ার্ড’ ইনফেকশনও হতে পারে। তিনি বলেন, ‘তাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রোগীদের পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং দরকার না হলে স্টেরয়েড ও অক্সিজেন না দেয়ার মতো কাজগুলো করতে হবে।’

কখন আক্রমণ করে:

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য শরফুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ পরিবেশে সব সময়ই থাকে। থাকে মানুষের শরীরেও। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে এটা রোগ হিসাবে দেখা দেয়।

বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাক, তাদের ঝুঁকি বেশি। আবার স্টেরয়েড গ্রহণ করা ব্যক্তিরাও এতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। তিনি জানান, এই ছত্রাক নাক, চোখ এবং কখনও কখনও মস্তিষ্কে আক্রমণ করে।

© এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

ফেসবুকে শেয়ার করুন

More News Of This Category
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin
x