পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর, বিচার শেষের অপেক্ষা পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর, বিচার শেষের অপেক্ষা – Narail news 24.com
বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন

পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর, বিচার শেষের অপেক্ষা

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
ফাইল ছবি

নড়াইল নিউজ ২৪.কম ডেস্ক:

পিলখানা ট্র্যাজেডির এক যুগ পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি সে ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া। হত্যা মামলার বিচারকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন সর্বোচ্চ আদালতে আপিল শুনানির অপেক্ষায়। অন্যদিকে একই ঘটনায় করা বিস্ফোরক মামলার বিচার চলছে ঢিমেতালে।

আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় করা দুটি মামলার মধ্যে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ১৮৪ জনের আপিল এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায়। আর বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় চলছে সাক্ষ্য গ্রহণ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলছেন, করোনার কারেণ কিছুটা বিলম্ব হলেও চলতি বছরের মধ্যেই শেষ হবে মামলার বিচার কাজ।
দীর্ঘ সময় ধরে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলাটি ঝুলে থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় দুটি মামলা হয়। তার মধ্যে হত্যা মামলায় বিচারিক কাজ দুই ধাপ পেরিয়ে এখন চূড়ান্ত আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। এ ঘটনায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে করা মামলাটি এখনও সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে।

ফাইল ছবি

‘হত্যা মামলায় ৩শয়ের মত আসামি। যাদের ১০ বছর বা তারও কম সাজা হয়েছে তারা সাজা খেটে মুক্তির অপেক্ষায় আছে। কিন্তু বিস্ফোরক মামলাটি বিচারাধীন থাকায় এবং সেখানে তারা জামিন না পাওয়ায় তাদের মুক্তি হচ্ছে না।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘১৩ বছর ধরে আসামিরা জেল খাটছেন। এটা অমানবিক। বিস্ফোরক মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় তারা মুক্তি পাচ্ছেন না। বর্তমানে যেভাবে মামলাটি চলছে, তাতে বিচার শেষ হতে আরও ১০ বছর লাগতে পারে।’

রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি ধীরগতিতে চালাচ্ছে- এমন অভিযোগ তুলে আমিনুল বলেন, ‘বিচারিক আদালতে আমরা বার বার দরখাস্ত দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আবেদন করেছি, জামিন চেয়েছি। কিন্তু কিছুই পাচ্ছি না। এতে বিচারের নামে প্রহসন হচ্ছে। বিচারকে দীর্ঘায়িত করা হলে তা অন্যায় হচ্ছে বলে ধরে নেয়া যায়।’
হত্যা মামলার চুড়ান্ত আপিল নিষ্পত্তি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫২ জনের মধ্যে ৮২ জনের পক্ষে আমি আপিল ফাইল করেছি। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ১০২ জনের পক্ষে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি) ফাইল করেছি। এ আপিলগুলো এখন শুনানির অপেক্ষায় আছে। এটি এখন মাননীয় প্রধান বিচারপতির এখতিয়ার।’

আলোচিত এ মামলায় মৃত্যদণ্ড এবং যাবজ্জীবন মিলিয়ে ১শয়ের বেশি আসামি আপিল ফাইল করেননি বলে জানান এ আইনজীবী।

এদিকে বিচারিক আদালতে চলমান থাকা বিস্ফোরক মামলার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘এ মামলায় ২১০ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। আর কিছু সাক্ষ্য নিয়েই মামলাটি শেষ হয়ে যাবে। মামলাটি মূলত করোনার কারনে পিছিয়ে গেছে।

ফাইল ছবি

‘হত্যা মামলাটি শেষ হওয়ার পর এ মামলায় বিচার শুরু হয়েছে। তাছাড়া করোনার কারনে বিচার কাজ স্থবির হয়ে গিয়েছিল। এখন নতুন করে শুরু হয়েছে, আশা করছি চলতি বছরের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।’

হত্যা মামলায় সর্বোচ্চ আদালতে আপিল নিষ্পত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘শুনানির জন্য মামলাটি যখন তালিকায় আসবে, আদালত তখন মামলার কনসিস স্টেটমেন্ট (মামলার সার সংক্ষেপ) দাখিলের নির্দেশ দেবেন। আসামিপক্ষ সেটি দাখিল করবে। এরপর মামলার শুনানি হবে। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আমরা শুনানির জন্য প্রস্তুত আছি।’

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিদ্রোহ চলাকালে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রথমে রাজধানীর লালবাগ থানায় হত্যা এবং বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। পরে এসব মামলা নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তরিত হয়।

সিআইডি দীর্ঘ তদন্ত শেষে হত্যা মামলায় ২৩ বেসামরিক ব্যক্তিসহ প্রথমে ৮২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে সম্পূরক অভিযোগপত্রে আরও ২৬ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করায় আসামির সংখ্যা হয় ৮৫০ জন।

বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় ৮০৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় সিআইডি। পরে আরও ২৬ জনকে অভিযুক্ত করে মোট ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

মামলার আসামিদের মধ্যে বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীকেও দণ্ড দেয়া হয়। সাজা ভোগকালীন বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু অসুস্থ হয়ে মারা যান। বিচার চলার সময় ৪ আসামির মৃত্যু হয়েছে।

রাজধানীর পুরান ঢাকার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে তিনি ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন, ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে (তিন বছর থেকে ১৭ বছর পর্যন্ত) কারাদণ্ড দেন। এছাড়া ২৭৮ জনকে খালাস দেয়া হয়। ৪ জন আসামি বিচার চলাকালে মারা যাওয়ায় মামলার দায় থেকে তারা অব্যাহতি পান।

ফাইল ছবি

রায়ে খালাসপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা চেয়ে আপিল করেন রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা তাদের সাজা বাতিল চেয়ে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। আপিল শুনানির জন্য সুপ্রিমকোর্টের বিশেষ ব্যবস্থায় সর্বমোট ৩৭ হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়। এ জন্য মোট ১২ লাখ ৯৫ হাজার পৃষ্ঠার ৩৫ কপি ও অতিরিক্ত দুই কপি পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর তিন বিচারপতির সমন্বয়ে হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের রায়ে ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয় ১৮৫ জনকে এবং বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয় ২২৮ জনকে।

এরপর হাইকোর্টের পূর্নাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে গত বছর হাইকোর্টে খালাস পাওয়া ৭৫ জন এবং সাজা কমে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ৮ আসামিসহ মোট ৮৩ জনের ক্ষেত্রে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে রাষ্ট্রপক্ষ।

আর আসামিদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং যাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্ত ১৮৪ জন আপিল বিভাগে আবেদন করেন। যা এখনও শুনানির অপেক্ষায় আছে।

রক্তাক্ত এ ঘটনার পর বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিডিআর) নাম পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) করা হয়।

© এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

ফেসবুকে শেয়ার করুন

More News Of This Category
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin
x