নড়াইলে গাছ খেঁকো ইউপি চেয়ারম্যান ! নড়াইলে গাছ খেঁকো ইউপি চেয়ারম্যান ! – Narail news 24.com
মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নির্বাচনে না আসার খেসারত বিএনপিকে দিতে হবে মন্তব্য ওবায়দুল কাদেরের সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্রে বিডিআর বিদ্রোহ ঘটানো হয়েছিল – পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ বাংলাদেশে জলবায়ু কর্মকান্ডে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে – পরিবেশ মন্ত্রী নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের জন্মবার্ষিকী পালিত নড়াগাতীতে ২৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ে যেতে চায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে ঝটিকা অভিযানে অনিয়ম দেখলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিক্ষার্থীরা জাপানসহ অন্যান্য দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে – জাপানের রাষ্ট্রদূত লোহাগড়ার মেধাবী ছাত্র এহসানুল কবির অর্ক এর অনন্য কীর্তি

নড়াইলে গাছ খেঁকো ইউপি চেয়ারম্যান !

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৩ জুন, ২০২১
ছবি সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টার:

নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের তুলারামপুর-মাইজপাড়া সড়কের দু’পাশে সামাজিক বনায়নের মূল্যবান গাছ কেটে উজাড় করার অভিযোগ উঠেছে তুলারামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।  এ যেন গাছ  খেঁকো ইউপি চেয়ারম্যান !

বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের ছত্রছায়ায় একটি চক্র এই বন উজাড়ে জড়িত বলে অভিযোগ করছেন সামাজিক বনায়নের সদস্যরা। একে একে সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে নেওয়ায় লভ্যাংশ পাওয়া নিয়ে সংশয়ে আছেন সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীরা। সম্প্রতি তুলারামপুর ইউনিয়নের সামাজিক বনায়নের এলাকা ঘুরে ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, প্রায়ই নিয়মিতভাবে সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে ধ্বংস করা হচ্ছে। রাতের আঁধারে বেশ কয়েকটি চক্র সংঘবদ্ধ হয়ে সামাজিক বনায়নের গাছগুলো কেটে ফেলছে। কখনো গভীর রাতে আবার কখনো কোটি কোটি টাকার গাছ নাম মাত্র মূল্যে কেনা হচ্ছে। সড়কের পাশ ও খালের পাশসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে সামাজিক বনায়নের নানান জাতের শত শত গাছ কেটে নিয়ে গেছে চোর চক্র। সাক্ষী হয়ে এখনো দাঁড়িয়ে রয়েছে কেটে নেওয়া গাছের অবশিষ্ট গোড়া।

সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে,‘নড়াইল-যশোর সড়কের পাশে তুলারামপুর-মাইজপাড়া ১০ কিলোমিটার জেলা সড়ক। সড়কটি বর্তমানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় হলেও এর পূর্ববর্তী মালিকানা ছিল এলজিইডি। নড়াইল-যশোর সড়কের তুলারামপুর ইউপি অংশের সাড়ে ৫ কি.মি সড়কের সরকারী খাস জমির ওপর লাগানো ১ হাজার গাছের অধিকাংশই নিজেদের ইচ্ছামতো কেটে নিয়ে গেছেন সংঘবদ্ধ চক্রটি। সর্বশেষ ৩৭১ টি পুরনো বড় গাছের একটি কতিথ টেন্ডার তৈরী করে তা কাটা শুরু হয়েছে।

ছবি:- নড়াইল নিউজ ২৪.কম

অভিযোগে জানা যায়, তুলারামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো.বুলবুল আহমেদ নিয়ম বহির্ভূতভাবে কোটি টাকা মূল্যের গাছ মাত্র ১৩ লক্ষ টাকায় নামমাত্র টেন্ডার দেখিয়ে ১৭ দিনে প্রায় ২০০ গাছ কর্তন করেছে। এরপর বিষয়টি স্থানীয়রা জেলা প্রশাসনের নজরে আনলে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে গাছ কাটা বন্ধ করে দেয়া হয়।

স্থানীয়রা জানায়,সড়কের পাশে থাকা প্রায় ৫০০ টি বড় মেহগনি,কড়াই ও শিশু গাছের প্রতিটির গড় মূল্য আনুমানিক ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা হিসেবে মোট মূল্য দাঁড়ায় কোটি টাকার ওপরে। অথচ বন বিভাগের সাথে যোগসাজসে ৩৭১টি গাছের মোট দর ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। যার গড় মূল্য সাড়ে ৩ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে তুলারামপুর-মাইজপাড়া সড়কের সাড়ে ৫ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে প্রায় ১ হাজার গাছ রোপন করা হয়। এলজিইডি,ইউনিয়ন পরিষদ, কেয়ার বাংলাদেশের পক্ষে গণ সাহায্য সংস্থা এবং উপকারভোগীদের নিয়ে একটি চুক্তিনামা করা হয়। সেই চুক্তি মোতাবেক ইউনিয়ন পরিষদ শতকরা ৪০ শতাংশ ,উপকারভোগী ও জমির মালিক ৫০ শতাংশ এবং এনজিও পাবেন ১০ শতাংশ। যদিও এই চুক্তি সামাজিক বনায়নের নিয়মের পরিপন্থি,তবুও চুক্তিতে থাকা এনজিও এবং উপকারভোগীদের না জানিয়ে ওই ইউপি চেয়ারম্যান নিজের খেয়ালখুশী মতো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই গাছ কাটছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে,চুক্তি এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া ত্রুটি থাকায় আপাতত গাছ কাটা বন্ধ রেখেছে জেলা প্রশাসন।

ইউনিয়নের মালিডাঙ্গা গ্রামের জৈনক উপকারভোগী মিজানুর রহমান বলেন,‘ গাছ লাগানো ও গাছগুলো বাঁচিয়ে তোলা পর্যন্ত একজন উপকারভোগীর সময় ও অর্থ খরচ হয়। এরপর বছরের পর বছর গোড়া পরিস্কার ও গাছের যত্ন নিতে আরও অনেক টাকা খরচ হয়। কিন্তু গাছগুলো বড় হয়ে উঠলে রাতের আঁধারে কাঠ সিন্ডিকেট চক্র এগুলো কেটে নিয়ে যায়।’

নিজের জমিতে লাগানো প্রায় ২০ টি গাছ দেখাশোনা করেছেন অপর উপকারভোগী মন্নু বিশ্বাস। তিনি বলেন,‘আমার জমিতে বেড়ে ওঠা সামাজিক বনায়নের আওতায় একেকটি গাছের মূল্য সর্বনিম্ন ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার পর্যন্ত। অথচ আমাদের হাতে লালন-পালন করা গাছগুলি আমাদের না জানিয়ে পানির দরে বিক্রি করা হয়েছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কৃত্রিম টেন্ডারের মাধ্যমে প্রকৃত মূল্যের অনেক কম মূল্যে গাছগুলো টেন্ডার করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।’

অভিযুক্ত তুলারামপুর ইউপি চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ জানান,‘গত দুই বছর ধরে এ সকল গাছ বনবিভাগের মাধ্যমে মার্কিং করা হয়। এরপর গাছের মূল্য নির্ধারণ করে দেয় বন বিভাগ। এরপর যশোর সামাজিক বন বিভাগ,সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে টেন্ডারের অনুমোদন দেয়। প্রায় মাস খানেক আগে সঠিক প্রক্রিয়ায় টেন্ডার সম্পন্ন হয়।’

নড়াইল বন বিভাগের কর্মকর্তা এস কে আব্দুর রশীদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘আমরা যে ধরনের গাছ পেয়েছি সেই মূল্যে সঠিক প্রক্রিয়ায় টেন্ডার করা হয়েছে। বাজারের দামের চেয়ে সরকারী মূল্য সবসময় একটু কম থাকে।’

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া ইসলাম জানান, আমি এ উপজেলায় সদ্য যোগদান করেছি। বিধায় বিষয়টি জেনে বুঝে পরবর্তীতে জানাতে পারবো।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন,‘আপাতত গাছ কাটা বন্ধ আছে। তবে আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

© এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

ফেসবুকে শেয়ার করুন

More News Of This Category
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin
x