নৌকায় ভোট চাইলেন নড়াইল-২ আসনে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আসিফুর রহমান বাপ্পি নৌকায় ভোট চাইলেন নড়াইল-২ আসনে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আসিফুর রহমান বাপ্পি – Narail news 24.com
বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন

নৌকায় ভোট চাইলেন নড়াইল-২ আসনে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আসিফুর রহমান বাপ্পি

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৬ জুন, ২০২৩
এস.এম. আসিফুর রহমান বাপ্পি। ছবি:- নড়াইল নিউজ ২৪.কম

নৌকার পক্ষে ভোট চাইলেন নড়াইল -২ আসনের আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী এস এম আসিফুর রহমান বাপ্পি। নড়াইল নিউজ ২৪.কম এর পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।:-

আল্লাহ্ সর্ব শক্তিমান
সম্মানিত নড়াইলবাসী
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু!
অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি নমস্কার ও আদাব। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য রইল শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।
আমার বাবা মরহুম শাহ্ মোঃ আতিয়ুর রহমান ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন অন্যতম সংগঠক ছিলেন। ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ
সম্পাদক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফজলুল হক হল ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পরপর দুইবার বিপুল ভোেট নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নড়াইল জেলা শাখার
সহ-সভাপতি। প্রাক্তন চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (১৯৭৩-১৯৭৫) ও বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (১৯৯৮-২০০১)। প্রাক্তন নির্বাহী উপদেষ্টা
আমেরিকান দূতাবাস, পূর্ব-পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ (১৯৬৫-১৯৭৩)। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের
শাহাদত বরণের ১৩ দিন পর বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর হওয়ার অপরাধে ২৮শে আগস্ট ১৯৭৫ সালে বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ ৪৪ মাস বিনা অপরাধে শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের
প্রতি আনুগত্যের কারণে গ্রেপ্তার, নির্মম-নির্যাতন ও কারারুদ্ধ করা হয় তাকে। ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর জেল হত্যাকাণ্ডের সময় জাতীয় ৪ নেতার সাথে তিনিও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে
অবরুদ্ধ ছিলেন। বাবার অনুপস্থিতিতে ও বাবা জেলে থাকাকালীন সময় আমরা নির্মম নির্যাতন ও অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হয়েছি। সেই দুঃসময়ে বাবাকে বাবা বলে ডাকবো, বাবার স্নেহ
ভালোবাসা আবারও পাবো তা কল্পনা করতে পারিনি। মায়ের চোখের পানি আর আমাদের চার ভাইবোনের বুকের ভিতর ডুকরে ওঠা কান্না অপেক্ষার প্রহর গুনেছে সব সময়। কবে আসবে
সেই সুসময়। কবে হবে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বিচার। আমার মা সব সময় দোয়া করতেন বঙ্গবন্ধু কন্যাদের জন্য, যেন আল্লাহ তায়ালা সবসময় তাদেরকে সুস্থ ও নিরাপদে রাখেন ।
দীর্ঘ ৬০ বছর যাবৎ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয় থেকে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ ও লালন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আনুগত্যে
অবিচল থেকে ২০১৮ সালে ইহলোক ত্যাগ করেন আমার শ্রদ্ধেয় বাবা। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে তিনি আমাকে বলেছিলেন, “বাবা আমি স্বপ্ন দেখি বঙ্গবন্ধুর অসম্প্রদায়িক আদর্শের সোনার বাংলার।
বঙ্গবন্ধুর কন্যার পাশে থেকে নড়াইলবাসীর সেবা করবে তুমি, এটা আমার শেষ ইচ্ছা।” আমার মা মরহুমা ফরিদা রহমান পূর্ব-পাকিস্তান ছাত্রলীগ নেত্রী ছিলেন। ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রী
সংসদের (ইউকসু) নির্বাচিত সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক, সহ-সভাপতি ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগ, সিনিয়র সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় কমিটি ও প্রাক্তন
সংসদ সদস্য নবম জাতীয় সংসদ, সংরক্ষিত মহিলা আসন- ৩১৭ (২০০৯-২০১৩)। আমার মামা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম কামাল চৌধুরী ও মরহুম জামাল চৌধুরী ১৯৮১ সালে আজকের
সফল রাষ্ট্রনায়ক, দেশরত্ন, আমার অভিভাবক, জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ এবং বিশ্বস্ত সহযোগী ছিলেন। আমার মেজো চাচা শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এম.
আজিজুর রহমান ছিলেন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় লোহাগাড়া থানা আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক। আমার চাচা এই দেশ স্বাধীনের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।
দেশ ও দলের দুর্দিনে, দুর্যোগে, দুঃসময়ে, জেল কিংবা কারাবরণে সকল সময় আমার পরিবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, তাঁর পরিবার ও তাঁর কন্যাদের সাথে ছিলেন। আমিও সেই
রক্তের উত্তরসূরি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর কন্যার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ও দলীয় সিদ্ধান্তের আনুগত্যে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে
নড়াইল-২ আসন থেকে নৌকার নির্বাচনী প্রচারণা কালীন সময় ১৪ দিন নির্বাচনী প্রচারণা করার পর দলীয় সভানেত্রীর ও দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে জাতীয়
স্বার্থে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে নৌকাকে বিজয়ী করেছি। একইভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে তাকেও বিজয়ী করতে সক্ষম
হয়েছি। নড়াইল জেলার রাজনীতিতে কখনো গ্রুপিং, দলীয় কোন্দল সৃষ্টি কিংবা দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে কাজ করিনি। আমি আশাবাদী আমার এই ত্যাগ ও আনুগত্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও
দলের সভানেত্রী নিশ্চয়ই বিবেচনা করবেন। আমার রক্তে আওয়ামী লীগ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই আমি চূড়ান্ত বলে মনে করি। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন অবশ্যই সেটা দল, দেশ, জাতি,
মানবতার মুক্তি ও কল্যাণের জন্যই করবেন। তাঁর সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও ভালোবাসা রেখে, আনুগত্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে, আমি আমার রাজনীতি শুরু করেছি, কাজ করে যাচ্ছি
এবং করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী আমার রাজনৈতিক অভিভাবক। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই আমার জন্য চূড়ান্ত। ভাই লীগ, ব্যক্তি লীগ কিংবা নিজের স্বার্থের জন্য নয়, দলকে
ভালোবেসে, দলের প্রতি আনুগত্য ও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আমি মাঠে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। ইনশাল্লাহ।
জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তে আমরা যারা কাজ করি, বিশ্বাস করি, তারা একত্রিত থেকে নড়াইল আওয়ামী লীগকে সমুন্নত রেখে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর
পক্ষে কাজ করে, নৌকাকে বিজয়ী করে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে এই আসনটি আবারো উপহার দিব। প্রমাণ করবো নড়াইলের মাটি, শেখ হাসিনার ঘাটি। নড়াইল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক
শক্তি কে আরো বৃদ্ধি করতে আমার মেধা, শ্রম ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাই। এবারের নির্বাচন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে, গণতন্ত্র সুরক্ষা, ভাত ও ভোটের অধিকার নিশ্চিত ও উন্নয়নের
ধারাকে অব্যাহত রাখার নির্বাচন।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিনবদলের সনদ হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ প্রমাণিত হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ডিজিটাল বাংলাদেশর রূপকার
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যোগ্য উত্তরসূরী সজীব ওয়াজেদ জয় এর এবারের স্লোগান “স্মার্ট বাংলাদেশ। ” জ্ঞানী ও গুণীর পূর্ণভূমি আমার প্রানের জেলা নড়াইল। চিত্রা, নবগঙ্গা, মধুমতি দ্বারা
পরিবেষ্টিত আমাদের নড়াইলকে আধুনিক ও স্মার্ট নড়াইল গঠনে একটি পরিকল্পিত রোডম্যাপ মোতাবেক আমি কাজ করার সুযোগ পেতে চাই ।
অথনৈতিকমুক্তি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ, চিকিৎসা, কৃষি বিপ্লব, শিল্পায়ন, সামাজিক সচেতনতা, নাগরিক অধিকার
ও জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে সকল ক্ষেত্রে নড়াইলকে একটি মডেল জেলা গঠনে আমার শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা কে কাজে
লাগাতে চাই। তাই আসুন আমরা নড়াইলবাসী সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হই। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঘোষিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদের
নতুন নির্বাচনী ইশতেহার কে সামনে রেখে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে সকলে মিলে মিশে একই মঞ্চে বসে জয়
বাংলা স্লোগানে নিজেদেরকে সমর্পণ করি।
ভেদাভেদ নয়। শিক্ষা, শান্তি, প্রগতির ধারা অব্যাহত রেখে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে সবাই মিলেমিশে কাজ করার
শপথ করি। তাহলে আজকের সফল প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নের রূপকার, মানবতার মা, দুর্যোগ ও দুঃসময়ের সঠিক নেতৃত্ব দানকারী,
বার বার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, দেশ ও দেশের বাইরে যার সুনাম ও সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে কর্মগুণে স্বল্প সময়ের মধ্যে। তিনিই
হবেন আগামীর উন্নয়ন, আধুনিক স্মার্ট বাংলাদেশ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শান্তির অগ্রদূত আগামীর নোবেলজয়ী
প্রধানমন্ত্রী। তিনি থাকবেন সকল মানুষের অন্তরের অন্তঃস্থলে।

আসুন সবাই মিলে হাতে হাত রেখে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাই। কি পেলাম সেটা বড় নয়, কী দিতে পারলাম
দেশটাকে সেটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। প্রতিটি গ্রাম হবে শহর। সকল মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার মান মর্যাদা
আরো বৃদ্ধি পাবে। আমার সোনার বাংলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর হবে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নড়াইল জেলাসহ নড়াইল জেলার সকল সহযোগী সংগঠনের নেতা ও কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও
ভালোবাসা রেখে, সকলকে উদাত্ত আহবান করছি আসুন আমরা নড়াইলবাসী সকলে মিলেমিশে আগামী দ্বাদশ জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে আবারো বিপুল ভোটে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করবো। – ইনশাআল্লাহ

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ন শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ।

এস.এম. আসিফুর রহমান বাপ্পি
সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, নড়াইল জেলা
সংসদ সদস্য প্রার্থী, নড়াইল-২।

© এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

ফেসবুকে শেয়ার করুন

More News Of This Category
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin
x