তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা উচ্চ আদালতের রায়ে বাতিল হয়েছে – সেতুমন্ত্রী তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা উচ্চ আদালতের রায়ে বাতিল হয়েছে – সেতুমন্ত্রী – Narail news 24.com
বুধবার, ১২ জুন ২০২৪, ০৯:১৫ অপরাহ্ন

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা উচ্চ আদালতের রায়ে বাতিল হয়েছে – সেতুমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২ অক্টোবর, ২০২১

নড়াইল নিউজ ২৪.কম ডেস্ক:

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা উচ্চ আদালতের রায়ে বাতিল হয়েছে জানিয়ে এটি ফেরানো সম্ভব নয় বলে বিএনপিকে জানিয়ে। গত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অংশ নেয়া বিএনপি আবার নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি তোলার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতা এ কথা বলেন তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি ‘অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা’ এবং এটি উচ্চ আদালতের রায়ে বাতিল হয়েছে জানিয়ে কাদের বলেছেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে এটি দীর্ঘদিন চলতে পারে না।’

জাতীয় নির্বাচনে যেতে এসব মীমাংসিত বিষয় নিয়ে বিএনপির দেয়া শর্তগুলোকে ‘মামা বাড়ির আবদার’ হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। শনিবার ঢাকার সরকারি বাসভবন থেকে এক ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

কাদের বলেন, ‘বিএনপির সবকিছুতেই শর্ত, মামার বাড়ির আবদার। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করলে নাকি বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, আসলে বিএনপি ভালো করেই জানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি আদালতের মীমাংসিত বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘এ পদ্ধতি ছিল একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা। দীর্ঘ মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার চলতে পারে না। দেশে গণতন্ত্র যখন এগিয়ে যায়, তখন সরকার ও নির্বাচনব্যবস্থার ওপর আস্থা ফিরতে শুরু করে।’

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের মুখে বিএনপি সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংযোজন করলেও ২০০৭ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে জটিলতা তৈরি হয়।

বিএনপি শাসনামলে প্রধান বিচারপতির চাকরির মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোকে কেন্দ্র করে এই জটিলতা দেখা দেয়।

চাকরির মেয়াদ বাড়ানোয় সাবেক প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়া নিশ্চিত হয়। কিন্তু তাকে মানতে রাজি ছিল না আওয়ামী লীগ।

কে এম হাসান বিচারপতি হওয়ার আগে বিএনপির কমিটির সদস্য ছিলেন। আর এ কারণে তাকে মেনে না নিয়ে আন্দোলনে নামে সে সময়ের বিরোধী দল।

বিএনপি একতরফা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে গেলে ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে জারি হয় জরুরি আইন। প্রায় দুই বছর পর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ভোটে বিএনপি জোটের ভরাডুবি হয়। এরপর উচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।

কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে না হওয়ায় বিএনপি জোট ২০১৪ সালর ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে। পরে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে তারা আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই অংশ নেয়।

এই ভোটে বিএনপির ফলাফল ২০০৮ সালের নির্বাচনের চেয়ে বাজে হয়। কিন্তু বিএনপি এই ফলাফল কখনও মেনে নেয়নি। তাদের দাবি, ভোটে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে।

‘নির্বাচন কমিশনে সরকারের হস্তক্ষেপ নেই’:

বিএনপি এবার ভোটে আসতে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানাচ্ছে। তুলে ধরছে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের দাবি।

ওবায়দুল কাদের দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।’

বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে বহুদলীয় তামাশা ও সুবিধাবাদ চালু করেছিল, যাদের দলের অভ্যন্তরে নেই গণতন্ত্রের চর্চা, তার আজ গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলেন।’

নির্বাচিত হয়েও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদে না যাওয়ায় আবারও তার সমালোচনা করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আপনি নির্বাচিত হয়েও কেন সংসদে গেলেন না? এটা কোন গণতন্ত্র? ভোটাধিকার নিয়ে তো আপনারাই ছিনিমিনি খেলছিলেন।’

পরাজয়ের ভয়ে ভীত বিএনপি:

আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপি ভয় পাচ্ছে বলেও দাবি করেন কাদের। বলেন, ‘ভরাডুবির আশঙ্কা তাদের আগেই পেয়ে বসেছে। হেরে যাওয়ার ভয়ে তাদেরই হৃৎকম্পন শুরু হয়ে গেছে।’

উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে বিএনপির অংশ না নেয়া নিয়েও কথা বলেন তিনি। বলেন, ‘এতই যখন জনসমর্থনের জোয়ার, স্থানীয় সরকার ও উপনির্বাচনে প্রমাণ করতে পারলেন না কেন? জনসমর্থনের জোয়ার তো গত ১৩ বছরে কোনো নির্বাচনেও দেখলাম না, আন্দোলনেও দেখলাম না।

‘তারা ভরাডুবির ভয়ে এখন নির্বাচনবিমুখ, তাদের কথিত জোয়ার প্রকৃতপক্ষে ভাটায় রূপান্তরিত হয়েছে। তাই রাজপথ আর ভোটের ময়দান ছেড়ে গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনীতিকে সীমাবদ্ধ করেছে।’

‘বিএনপি কী করতে পারে জনগণ দেখেছে’:

বিএনপির আন্দোলনের হুমকিকে পাত্তা দিচ্ছেন না কাদের। বলেন, ‘জনগণ তাদের সক্ষমতা ইতিমধ্যে দেখেছে। আমরাও ভালো করে জানি বিএনপি কী করতে পারে, কতটা যেতে পারে। তাই বলব, এসব হুমকি-ধমকি শেখ হাসিনা সরকার আর আওয়ামী লীগকে দেবেন না।

‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টার যে ছক আঁকছেন, তা আমাদের অজানা নয়। অতীতের মতো আবারও আপনাদের ব্যর্থতা বরণ করতে হবে। জনগণ আপনাদের ওপর আস্থা হারিয়েছে। আন্দোলনে আপনাদের সফলতা আসবে না। নির্বাচনেও আপনারা সফল হতে পারবেন না।’

© এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

ফেসবুকে শেয়ার করুন

More News Of This Category
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin
x