চারণকবি বিজয় সরকারের ১১৯ তম জন্মবার্ষিকী আজ চারণকবি বিজয় সরকারের ১১৯ তম জন্মবার্ষিকী আজ – Narail news 24.com
বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সবার সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করুন – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনায় মসৃণভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন – মার্কিন থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক জন্মটাই যাদের অগণতান্ত্রিক, সেই বিএনপিই গণতন্ত্রের কথা বলে মন্তব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নড়াইলে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল বাসচলকের, আহত ১৯ লোহাগড়ায় মোটরসাইকেলের জন্য আত্মহত্যা ! কিশোর অপরাধীদের মোকাবেলায় বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী – মাহবুব হোসেন ব্রাজিল বাংলাদেশ থেকে সরাসরি তৈরি পোশাক আমদানি করতে পারে – প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে চাঁদ দেখা যায়নি , বুধবার পবিত্র ঈদুল ফিতর লোহাগড়ায় নদীতে পড়ে নিখোঁজ শিশুর সন্ধান মেলেনি নড়াইলে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ 

চারণকবি বিজয় সরকারের ১১৯ তম জন্মবার্ষিকী আজ

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

স্টাফ রিপোর্টার :
চারণকবি বিজয় সরকারের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী আজ (২০ ফেব্রুয়ারি)। “এ পৃথিবী যেমন আছে তেমনই ঠিক রবে, সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে একদিন চলে যেতে হবে। পোষা পাখি উড়ে যাবে সজনি গো আমি একদিন ভাবিনী মনে, তুমি জানোনারে প্রিয় তুমি মোর জীবনের সাধনা..এই সব বিখ্যাত মরমী গানের স্রষ্টা কবিয়াল বিজয় সরকার।

বিরল ব্যক্তিত্ব ও প্রতিভা সম্পন্ন এই মহান পুরুষ ১৯০৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী নড়াইলের ডুমদি গ্রামে পিতা নবকৃষ্ণ অধিকারী ও মাতা হিমালয় অধিকারীর সংসারে জন্ম গ্রহন করেন। দশ ভাইবোনের মধ্যে বিজয় ছিলেন সবার ছোট।

এদিকে কবির জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও চারণ কবি বিজয় সরকার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এ উপলক্ষে কবির জন্মস্থান নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের ডুমদি গ্রামে কবির প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান, বিজয়গীতি পরিবেশন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

১৯২৬ সালে স্থানীয় বাশগ্রাম হাইস্কুল থেকে তৎকালীন মেট্রিকুলেশন পাশ করে স্থানীয় ডুমদী প্রাইমারী স্কুলে শিক্ষকতা শুরু। ছাত্র অবস্থায় তিনি বিখ্যাত কবি ভুবন ঘোষের সান্নিধ্য লাভ করেন,এরপর অভিনেতা নেপালচন্দ্র বিশ্বাসের উৎসাহ পেয়ে নড়াইলের বিখ্যাত জমিদার মনীন্দ্র রায়ের যাত্রা দলে বিবেক চরিত্রে নিয়োজিত হন । বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক অরুনেশ্বর রায়ের কাছে রবীন্দ্র সঙ্গীতে তালিম নেন। প্রখ্যাত লোককবি মনোহর সরকারের কবিগানে আকৃষ্ট হয়ে তার কাছে কবিগানের দীক্ষা নেন । মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি পার্শ্ববর্তী সদানন্দ মল্লিক, রসিক মালাকার, নগেন মাষ্টার,পরান ঢুলি, ধীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, বিমল বিশ্বাস, কলিকান্ত সিকদার, মুকুন্দ বিশ্বাস,জিতেন্দ্রনাথ বিশ্বাস,হাজারীলাল বিশ্বাস ও সতীশ শীল কে নিয়ে কবিগানের দল তৈরী করেন। ফরিদপুর জেলার বেন্নবাড়ি গ্রামে তার প্রথম কবিগানের আসর অনুষ্ঠিত হয়। ফরিদপুর ,বরিশাল,ঢাকা সহ ভারতের দিল্লী ,উত্তর প্রদেশ,ওড়িশা,আন্দামান,ত্রিপুরা ও আসামের বাঙ্গালী বাসস্থানে তিনি কবিগান পরিবশেন করেন ।

দীর্ঘ সংগীত সাধনার জীবনে বিচ্ছেদগান, শোকগান, ইসলামীগান, আধ্যান্তিক গান, দেশের গান, কীর্তন, ধর্মভক্তি, মরমী গান, বাউল, কৃঞ্চপ্রেম তিনি প্রায় দুই হাজার গান লিখেছেন। গ্রামবাংলার মানুষের হৃদয়ের আকুতিকে তিনি চমৎকার সুর ব্যঞ্জনায় তুলে ধরে সাধারন মানুষের অন্তরে ঠাঁই করে নিয়েছেন। নিভৃতচারী এই সংগীত সাধক আসরের প্রয়োজনে মঞ্চে বসেই গান রচনা করে সুর করে তা পরিবেশন করেছেন। গ্রামের নদী মাঠ আর প্রকৃতি তে ঘুরে বেড়ানো বিজয় সরকার ছোট বেলা থেকেই কবিতা আর গান লিখতে থাকেন । কবিগানের মধ্যে অশ্লিলতা দূর করে সবার জন্য উপযোগী করে কবিগান কে সমৃদ্ধ করে বাংলাদেশে জনপ্রিয় করে তোলেন কবিয়াল বিজয় সরকার । তার ভক্তরা “সরকার” পরিচয়ে নড়াইল-যশোর-গোপালগঞ্জ-বাগেরহাট সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিজয়গীতি আর কবিগান পরিবেশন করেন ।


কবি জসিম উদ্দীন, গোলাম মোস্তফা,আব্বাস উদ্দীন, কাজী নজরুল ইসলাম ও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের সাহচার্য লাভ করেন। শান্তি নিকেতনে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবি বিজয় সরকারের গান শোনেন। বিজয় সরকারের ভাবধারা ও সংগীত শুনে পলি¬ কবি জসিম উদ্দিন বলেছেন,“ মাঝে মাঝে দেশীয় গ্রাম্য গায়কদের মুখে বিজয়ের রচিত বিচ্ছেদ গান শুনিয়া পাগল হই । নড়াইলের বিশ্ববরেন্য শিল্পী এস এম সুলতানের সাথে তার নিবীড় সম্পর্ক ছিলো । তারা দুজনেই মাঝে মধ্যে একত্রে মিলিত হতেন। নড়াইলের জারী সম্রাট মোসলেম বয়াতীর কাছে তিনি জারী গানের তালিম নেন ।

তিনি হরিগুরুচাঁদ ঠাকুরের প্রবর্তিত মতুয়া ধর্মমতে বিশেষ অনুরক্ত ছিলেন । তার রচিত পালাগীতির মধ্যে রামকান্ত বৈরাগী, জটিল উপাখ্যান, অর্জুন মিশ্র অন্যতম । এছাড়া রামায়ন গানের মধ্যে রাবন বধ ও পিতাপুত্র রচনা করেন তিনি। দুই বাংলায় সমানভাবে জনপ্রিয় এই কবি শেষ ঝবিনে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কেউটিয়ায় বসবাস করতেন । কবির ১ম স্ত্রী বীনাপানি দেবী ও ২য় স্ত্রী প্রমাদা দেবী । কাজল অধিকারী, বাদল অধিকারী ও শ্রীমতি বুলবুল বিশ্বাস কবির ২ পুত্র আর ১ কন্যা সন্তান। চিকিৎসাধীন থাকাকালীন অবস্থায় ১৯৮৫ সালের ৪ ডিসেম্বর কন্যা বুলবুল বিশ্বাসের হাওড়ার বাড়িতে মহান এই কবির দেহাবসান ঘটে ।

 

© এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

ফেসবুকে শেয়ার করুন

More News Of This Category
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin
x