ক্যাম্পাস খোলার আন্দোলনে ঢাবি শিক্ষকদের সংহতি প্রকাশ ক্যাম্পাস খোলার আন্দোলনে ঢাবি শিক্ষকদের সংহতি প্রকাশ – Narail news 24.com
শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ০৯:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নড়াইলে দুই মাদক ব্যাবসায়ীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কংগ্রেসম্যানদের সই জালকারী বিএনপি একটি জালিয়াত রাজনৈতিক দল মন্তব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের জন্য সব কিছু করে যাচ্ছেন – বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জুজুৎসুর নিউটনের ‘ভয়ংকর’ যৌন নিপীড়নের তথ্য জানালো র‍্যাব ভাঙ্গা-বেনাপোল রেলপথে আগামী অক্টোবর থেকে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলবে – রেলপথমন্ত্রী নড়াইলে হুইপ মাশরাফির বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আওয়ামী লীগ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র প্রত্যাবর্তন মুক্তিযুদ্ধের হারিয়ে যাওয়া মূল্যবোধের প্রত্যাবর্তন – কাদের যে পরিকল্পনায় খুন হন মল্লিকপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জানালো র‌্যাব এক আতঙ্কিত জনপদের নাম লোহাগড়া !

ক্যাম্পাস খোলার আন্দোলনে ঢাবি শিক্ষকদের সংহতি প্রকাশ

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৩০ মে, ২০২১

 নড়াইল নিউজ ২৪.কম ডেস্ক:

বিশ্ববিদ্যালয়, আবাসিক হলসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে চলমান আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক। এ ছাড়া বিভিন্ন বিভাগের আরো ১৮ জন শিক্ষক সংহতি প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদ।

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ক্যাম্পাস খোলার দাবিতে ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান আসিফ নজরুল ও ফার্সি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু মুসা মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ।

এ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ১৫ মাস অতিবাহিত হলে ক্যাম্পাস খোলার বিষয়ে কোন ধরণের রোডম্যাপ তৈরি করতে না পারার পিছনে প্রশাসন কে দায়ী করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ। রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনে সামনে সংক্ষিপ্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

এর আগে গত কয়েকদিন ধরে অনলাইনে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত ও শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে ক্যাম্পাস খোলার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও প্রগতিশীল ছাত্র ইউনিয়ন সমূহ। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো ক্যাম্পাস না খুলে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্তে অনড়।

করোনার দোহাই দিয়ে আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ না রেখে অতিদ্রুত খুলে দেয়ার আহবান জানিয়ে ঢাবি শিক্ষক আসিফ নজরুল বলেন, ‘দেশে অফিস-আদালত, গার্মেন্টস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন, শপিংমল খোলা আছে, সবই খোলা আছে কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ কেন? আমি অনেক ভেবে দেখেছি, আসলে এর কারণ কি? এর কারণ মূলত দুটি। একটি হলো, সরকারের মধ্যে থাকা বৈষম্যের নীতি। সরকারে যারা আছেন, তাদের অধিকাংশের সন্তান বিদেশে থাকে। যাদের পরিবার-পরিজনের কোন অসুবিধা হয় না। কিন্তু সমস্যা মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের। এদের প্রতি তাদের কোন মাথাব্যথা নাই। আজকে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয় হাজার হাজার প্রাইমারি স্কুল বন্ধ আছে। তাদের প্রতি ক্ষমতাসীনদের যে নিষ্ঠুর আচরণ, সেটা বাংলাদেশের সংবিধানে যে বৈষম্যের নীতি আছে সেটার সাথে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাস বন্ধ রাখার আরেকটি কারণ হলো, আমরা জানি ‘শিক্ষাই হলো জাতির মেরুদণ্ড’। কিন্তু দেশের সরকারের কাছে ‘শাষণই হলো জাতির মেরুদণ্ড’। তাই শাষণকার্যের জন্য যা প্রয়োজন অফিস-আদালত খোলা রাখা, শপিংমল খোলা রাখা, শাষণকে অব্যাহত রাখার জন্য যা দরকার সেটা হলে তাদের সমস্যা নাই। সমস্যা হচ্ছে রাজনীতি নিয়ে, শিক্ষা নিয়ে। এই দুটিকে স্টপ রাখতে পারলে সরকার নিরাপদ থাকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে সরকার যাই করুক তাতে কোন প্রতিবাদ হবে না। এই প্রতিবাদ সরকারের শাষণ কার্যে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এই রকম সামান্য আশঙ্কা থেকেই তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছি। মনে হচ্ছে যদি সম্ভব হয়, আগামী নির্বাচন পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য তৈরি আছে। সবাই গোল্লায় যাক, আমরা ক্ষমতায় থাকি, নিরাপদে থাকি।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী বলছেন ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে কোন চাপ নেই।’ শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। সেই চিন্তা থেকে আপনাকে চাপ দিতে হবে! এটি কি পলিটিক্যাল ইসু।

ফার্সি বিভাগের শিক্ষক আরিফ বিল্লাহ বলেন, ‘সবকিছু খুলে দেয়া হয়েছে, এমনকি রেস্টুরেন্টও, সীমান্ত দিয়ে এখনো মানুষ আসছে, ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক আসছে, এই সবকিছু খোলা রেখা সরকারের শিক্ষামন্ত্রী বলছেন, ৫% এর নিচে যখন সংক্রমণ হবে তখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছু যেভাবে খোলা আছে তাহলে তো ৫% এর নিচে কোনদিন আসবে না। তাহলে তো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনদিন খোলা হবে না।’

ঢাবির একাউন্টিং এ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব হোসেন বলেন, অনলাইন ক্লাসের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীরা চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছে। শিক্ষার্থীদের তারা একটি সিম কার্ড দিতে পারেনি। মোবাইল ডিভাইস দেয়ার নামে প্রতারণা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাথে যে বৈষম্য করা হয়েছে সেটা বিশ্বে নজীরবিহিন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে রিভিউ ক্লাস নিয়ে ক্লাস পরীক্ষা আহবান জানান তিনি।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত তাবাসসুম বলেন, এখন করোনার দোহাই দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে যেখানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাতে এই সরকারের ভূমিকা হিরক রাজার দেশের মত ভূমিকা পালন করছে। ‘যত কম জানবে, তত কম মানবে, তাই এদের জানার পথ বন্ধ করে দিতে হবে।’

© এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

ফেসবুকে শেয়ার করুন

More News Of This Category
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin
x