নড়াইল নিউজ ২৪.কম আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আফগানিস্তানের চলতি বছরের আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে রাজধানী কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখল করে তালেবান। কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটির নব্বই দশকের প্রথম শাসনামল একেবারেই নারীবান্ধব ছিল না। ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য সানের প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আরব নিউজ।
সে সময় আফগান নারীদের ওপর চরম নিপীড়নমূলক পদক্ষেপ নেয় তালেবান। তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস করা বা ঘরের বাইরে কাজ করার অনুমতি দেয়নি গোষ্ঠীটি। এ ছাড়া পরিবারের পুরুষ সদস্য ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রেও ছিল নিষেধাজ্ঞা।
তালেবান ১৫ আগস্ট ফের আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করায় স্বভাবতই উদ্বেগ কাজ করে দেশটির নারীদের মধ্যে। নিরাপত্তা শঙ্কায় সাংবাদিক, শিক্ষার্থীসহ অনেক আফগান নারী এরই মধ্যে দেশ ছেড়েছে।
নারীর ওপর তালেবানের আগের দমনমূলক শাসন ফের দেখতে হতে পারে- এ ভয়ে পাকিস্তানে সাময়িক ভিসা নিয়ে দেশ ছেড়ে পালান আফগানিস্তানের মেয়ে ফুটবল দল।
পাকিস্তানে আফগান মেয়ে ফুটবলারদের ভিসার মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। ভিসা শেষ হলেই তাদের দেশে ফিরতে হবে।
এ নিয়ে উদ্বেগে থাকা ওই ফুটবলারদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে যুক্তরাজ্য।
আফগান মেয়ে ফুটবলারদের নিরাপত্তা ও ক্যারিয়ারের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাদের যুক্তরাজ্যে বসবাসের অনুমতি দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য সানের প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আরব নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগান মেয়ে ফুটবলার, তাদের কোচ ও পরিবারকে যুক্তরাজ্যের ভিসা দেয়ার অনুমোদন দিয়েছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্র দ্য সানকে বলে, ‘প্রীতির নতুন আফগান পুনর্বাসন পরিকল্পনায় নারী ও মেয়েদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।’
ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, ‘ফুটবল দলটি যুক্তরাজ্যকে নিজেদের বাড়ি হিসেবে দেখতে সক্ষম হবে। তারা এখানে নির্ভীকভাবে চলাফেরা করতে পারবে।’
লিডস ইউনাইটেড ক্লাবের চেয়ারম্যান আন্দ্রিয়া রাদ্রিজ্জানি বলেন, ‘আফগান মেয়েদের আমাদের ক্লাব সফল ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ দিতে প্রস্তুত।’
আফগান মেয়ে ফুটবলারদের ভিসা দেয়ায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ফুটবলবিষয়ক সংস্থা ফুটবল ফর পিসের সহপ্রতিষ্ঠাতা কাশিফ সিদ্দিকি।
সিদ্দিকি বলেন, ‘১১১ আফগান মেয়ে ফুটবলার, তাদের পরিবার ও কোচের জীবন যুক্তরাজ্যে একবারে পাল্টে যাবে।
‘ব্রিটেন এ দুর্দিনে এগিয়ে না এলে তাদের আফগানিস্তানে দুর্বিষহ জীবনে ফিরে যেতে হতো।
‘ব্রিটেনের এ সিদ্ধান্তে লিডস ইউনাইটেডসহ অন্যান্য ক্লাবে ওই ফুটবলারদের খেলার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।’